বহুল আলোচিত মেটাভার্স ফরেন এঙচেঞ্জ বা এমটিএফইয়ের প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা ফেরত আনতে পেরেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে এখন ওই টাকা গ্রাহকদের হাতে ফেরত দেওয়া ‘কঠিন’ বলে মনে করেছেন সিআইডির একজন কর্মকর্তা।
টাকা ফেরত আনার বিষয়ে জানাতে গতকাল সোমবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার। তিনি বলেন, টাকা এখন সিআইডির অ্যাকাউন্টে রয়েছে। তবে দেশে ফিরিয়ে আনা গেলেও তা গ্রাহকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া অনেক কঠিন। এখানে আইনের অনেক মারপ্যাঁচ আছে। আদালতের অনুমোদন লাগবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে। এই প্রসেসগুলো আসলেই জটিল। কাজেই এ প্রসেসগুলোতে না ঢুকতে চাইলে দেশবাসীকে অনুরোধ জানাচ্ছি আপনারা কেউ এই ধরনের প্লাটফর্মে ইনভেস্ট করবেন না। খবর বিডিনিউজের।
এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, এগুলো ফরেন অ্যাপ। আমাদের দেশের মানুষকে তারা বিভিন্নভাবে এনগেজ করছে। দেশে এদের কোনো এজেন্ট আছে কিনা জানতে চাইলে ডিআইজি আবুল বাশার বলেন, সেটা তো অবশ্যই আছে। এরা গ্লোবালি কাজ করে। এদের হাজারটা এজেন্ট আছে। যেদিন আমরা এজেন্ট ধরে ফেলতে পারব, সেদিন তো মামলা ডিটেক্ট হয়ে গেল।
কত মানুষ এই এমটিএফইতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানতে চাইলে আবুল বাশার বলেন, এটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব না। অনেকে লজ্জায় কাউকে কিছু বলছেন না বা মামলা করেননি। স্বামী টাকা খুইয়ে স্ত্রীকে বলতে পারেননি, ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা–মাকে জানায়নি। আবার অনেকেই জানেন না এই ধরনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কোথায় প্রতিকার পাওয়া যায়। মেটাভার্স ফরেন এঙচেঞ্জ দুবাইভিত্তিক কোম্পানি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। এমএলএম পদ্ধতিতে কাজ করা এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের তৎপরতার বিষয়ে জানা যায় চার বছর আগে। ২০২৩ সালের দিকে এমটিএফই নামের এই অনলাইন প্রতারকদের তৎপরতা তুঙ্গে ছিল। সে সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা অফিস খুলে লোকজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশালসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজনের নিঃস্ব হওয়ার খবর আসে। ওই বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে আর টাকা তুলতে পারছিল না গ্রাহকেরা। এক পর্যায়ে সব অফিস বন্ধ করে দেশ থেকে উধাও হয়ে যায় তারা। ওই বছরের অগাস্টে এ বিষয়ে খিলগাঁও থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন মারুফ রহমান মাহিম নামে এক ব্যক্তি। পরে সেই মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি।
গতকালের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফোরেঙ ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত ‘প্রতারণামূলক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম’ এমটিএফইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিদেশে পাচার করা অর্থের একটি অংশ, প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ৪৪ কোটি ১৪ রাখ ৬২ হাজার ৩০৩ টাকা) উদ্ধার করেছে সিআইডি। এমটিএফই এর পঞ্জী স্কিমের প্রতারণার শিকার হয়ে একজন ভুক্তভোগী খিলগাঁও থানায় মামলা করেন। তবে সিআইডি তদন্তে নেমে এরকম ‘অসংখ্য’ বিনিয়োগকারীর কোটি কোটি টাকা খোয়ানোর তথ্য পায়।
টাকা ফেরত আনার কাজে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশ–মার্কিন কূটনৈতিক সহায়তা ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে’ বলে সিআইডির ভাষ্য।














