প্রথমবারের মতো ভেনামি চিংড়ির নপলি (একদিন বয়সী রেনু) আমদানির অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে দেশীয় ভেনামি চিংড়ির পোনা উৎপাদনকারী হ্যাচারিগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশীয় হ্যাচারির মালিকরা। এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন চিংড়ি হ্যাচারি মালিকদের সংগঠন শ্রিম্প হ্যাচারি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব) নেতৃবৃন্দ।
শ্রিম্প হ্যাচারি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব) সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য অধিদপ্তর গত ৩ ডিসেম্বর সাতক্ষীরার দেবহাটার পুরুলিয়া বাজারের তৌফিক এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে ভারত থেকে ৪২ কোটি ‘ভেনামি চিংড়ির নপলি আমদানির অনুমতি দেয়। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৩ ডিসেম্বর ওই অনুমতির ভিত্তিতে আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। অনুমতি অনুযায়ী, কলকাতার ‘বিধা ফিশ ট্রেডার্সে’র কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ নপলি আমদানি করা হবে। আগামী বর্ষার ৬৫ দিনের মাছধরার নিষেধাজ্ঞার সময় এই নপলি আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে আমদানির এই অনুমতি অবিলম্বে প্রত্যাহার চেয়ে গতকাল বুধবার কক্সবাজারে ‘সেব’ কার্যালয়ে ডাকা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হ্যাচারি মালিকরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সেব সভাপতি ও কক্সবাজার–৩ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ভেনামি হল এমন এক প্রকার চিংড়ি, যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রবল। এই চিংড়ি এখন চাহিদার চেয়েও বেশি বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে। আর নপলি হলো ওই চিংড়ির একদিন বয়সী রেনু পোনা। যা ৪২ কোটি আমদানির বিপরীতে ৪০০ কোটি আমদানি করলেও কেউ বুঝতে পারবে না। এগুলো গণনা করার কোনো সুযোগ নেই। এই পোনা আমদানি হলে দেশীয় চিংড়ি হ্যাচারি শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সেব মহাসচিব গিয়াস উদ্দিন জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ৬০টি চিংড়ি হ্যাচারি চালু রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে ৩২টি ও সাতক্ষীরায় ২৮টি হ্যাচারি পোনা উৎপাদন করে যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে ভেনামি চিংড়ি পোনা উৎপাদনের অনুমতি পেয়েছে ৬টি হ্যাচারি, যার মধ্যে ৫টিই কক্সবাজারে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মৎস্য অধিদপ্তর ভেনামি চিংড়ি চাষের অনুমতি দিয়েছে তাতে সর্বোচ্চ পোনা প্রয়োজন হয় ১৫ থেকে ২০ কোটি, আর যে ছয়টি হ্যাচারিকে পোনা উৎপাদনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি। এই অবস্থায় ভারত থেকে ৪২ কোটি নপলি আর প্রায় ৩০ কোটি পিএল আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
হ্যাচারি মালিকদের অভিযোগ, এ ধরনের অনুমতি অব্যাহত থাকলে দেশের চিংড়ি হ্যাচারি শিল্প কার্যত অচল হয়ে পড়বে। শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা–কর্মচারি বেকার হয়ে পড়বেন। এতে একদিকে যেমন দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে আমদানিনির্ভর একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।











