সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের প্রার্থীদের পরাজিত করতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, বিভিন্ন আসনে এগিয়ে থাকার পরও রহস্যজনক কারণে ফল পরিবর্তন করে তাদের প্রার্থীদের হারানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০টি আসনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং আরও তথ্য সংগ্রহ করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব যুবায়ের। তিনি বলেন, আমরা যে তথ্যগুলো দিয়েছি, সেগুলো সম্পূর্ণ জেনুইন। অনেক আসনে প্রথম দিকে আমরা এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু পরে রহস্যজনকভাবে আমাদের এগিয়ে থাকা আসনগুলোতে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। খবর বাংলানিউজের।
এহসানুল মাহবুব যুবায়ের অভিযোগ করে বলেন, কিছু আসনে ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা না করে পরে একসঙ্গে ফল প্রকাশ করা হয়েছে এবং তখনই তাদের প্রার্থীকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ৮টা–৯টার মধ্যে প্রায় সব গণনা শেষ, কিন্তু কয়েকটি কেন্দ্রের ফল আটকে রাখা হয়। পরে সেই কেন্দ্রগুলোর ফল দেখিয়ে আমাদের হারানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা–৬ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবদুল মান্নান লিখিত ও নথিপত্র উপস্থাপন করে অনিয়মের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, অনেক কেন্দ্রের ফলাফলের কপিতে কোনো পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর নেই, কোথাও কার্বন কপি ব্যবহার করা হয়েছে, আবার কোথাও অজানা ব্যক্তির নাম পোলিং এজেন্ট হিসেবে লেখা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের কোনো এজেন্টের নাম নেই, স্বাক্ষর নেই। যেসব নাম লেখা হয়েছে, সেই নামে আমাদের কোনো এজেন্টই ছিল না। একই হাতের লেখা ও একই ধরনের স্বাক্ষর দিয়ে ফল তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের রাত ১২টা ৫৮ মিনিটে ফল স্থগিতের আবেদন করা হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। বরং দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে এহসানুল মাহবুব যুবায়ের অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের একটি অংশ ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় এসব অনিয়ম হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনপূর্ব রাত থেকেই বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু হয় এবং ভোটের দিন ও রাতে তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এহসানুল মাহবুব যুবায়ের বলেন, আমরা ভোর ৫টা পর্যন্ত ইসিতে ছিলাম। অনেক জায়গায় বৈষম্যমূলক আচরণ হয়েছে। এক কেন্দ্রে দ্রুত ফল ঘোষণা, আরেক কেন্দ্রে বিলম্ব এভাবে ফল পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
এহসানুল মাহবুব যুবায়ের দাবি করে বলেন, এখন পর্যন্ত ৩০টি আসনে আমরা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিয়েছি। সব কেন্দ্র থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তথ্য–প্রমাণ হাতে এলে বাকি আসনগুলোতেও অভিযোগ দায়ের করা হবে। তিনি বলেন, আমরা আইনি সব ধরনের পদক্ষেপ নেব। পুনর্গণনা হলে সব কাগজপত্র সামনে আসবে, এজেন্টরা উপস্থিত থাকবে তখন প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা অবিলম্বে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।












