আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে সংসদীয় আসনগুলোতে মাঠে নামছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে তারা মাঠে নামবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপ–সচিব মো. আতিয়ার রহমান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন। এই চিঠির অনুলিপি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরও দেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠুভাবে বজায় রাখতে আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্্েরট নিয়োগ করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ ২৮ নভেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত স্ব স্ব এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনের চিঠির বর্ণিত নির্দেশনাবলীর আলোকে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব দেয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠুভাবে বজায় রাখতে প্রতি উপজেলায় ১ জন, তবে ১৫টি ইউনিয়নের অধিক (পৌরসভাসহ) ইউনিয়ন বিশিষ্ট উপজেলায় দুই জন; জেলা সদরের ‘এ’ ক্যাটাগরির পৌরসভায় একজন, তবে ৯ ওয়ার্ডের অধিক হলে ২জন; চট্টগ্রাম সিটিতে ১০ জন; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১ জন; ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৫ জন; খুলনা সিটিতে ৬ জন; গাজীপুর সিটিতে ৪ জন, অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে ৩ জন করে নির্বাহী হাকিম নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১০জন, উত্তর চট্টগ্রামের ৭ সংসদীয় আসনের মধ্যে ফটিকছড়িতে ১৫ ইউনিয়নের বেশি হওয়ায় এই উপজেলায় ২ জন, অপরদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬টি সংসদীয় আসনে পটিয়ায় ১৭ ইউনিয়নে ২ জন এবং পটিয়া ও রাউজান ‘এ’ ক্যাটাগরির পৌরসভায় ১ জন করে ২ জন এবং অবশিষ্ট সংসদীয় আসনগুলোতে ১ জন করে মোট ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী আজাদীকে বলেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতিটি সংসদীয় আসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে চট্টগ্রাম সিটিতে ১০জন এবং প্রতি প্রতি উপজেলায় ১ জন করে, তবে ১৫টি ইউনিয়নের অধিক (পৌরসভাসহ) ইউনিয়ন বিশিষ্ট উপজেলায় ২ জন করে ম্যজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া ‘এ’ ক্যাটাগরির পৌরসভায় ১ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্টেট নিয়োগ দেয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর আওতায় আচরণবিধি প্রতিপালনার্থে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় প্রয়োজনীয় নির্বাহী হাকিম নিয়োগ করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় ২৮ নভেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাহী হাকিমরা দায়িত্ব পালন করবেন।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপ–সচিব মো. আতিয়ার রহমানের চিঠিতে আরো বলা হয়, স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তার নিরিখে বিভাগীয় কমিশনারের পরামর্শক্রমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ (জেলা প্রশাসক) ইসি নির্ধারিত সংখ্যার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা কম–বেশি করতে পারবেন।
এছাড়া প্রত্যেক জেলায়, জেলা প্রশাসকের অধীনে ১/২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতিরিক্ত হিসাবে নিয়োজিত রাখতে হবে। যাতে জরুরি প্রয়োজনে যে কোনো স্থানে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের কয়েকদিন পূর্ব থেকে ভোটগ্রহণের দুই দিন পর পর্যন্ত অথবা কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে মোবাইল, স্ট্রাইকিং ফোর্সের সাথে বিশেষ করে বিজিবি বা অনুরূপ বাহিনীর প্রতি টিম বা প্লাটুনের সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হবে বিধায় ওই সময় আচরণবিধি প্রতিপালনে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা তখন হ্রাস করার প্রয়োজন হবে।
এছাড়া মোবাইল, স্ট্রাইকিং ফোর্সের সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ছাড়াও ভোটগ্রহণের কয়েকদিন পূর্ব হতে ভোটগ্রহণের পর পর্যন্ত কিছু সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজেও নিয়োজিত করার প্রয়োজন হবে।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি রোববার।











