২৫ জানুয়ারি সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি থাকবে পলোগ্রাউন্ডে

তারেক রহমানের মহাসমাবেশের প্রস্তুতি সভা শেষে খসরু

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

পলোগ্রাউন্ডের মাঠে আগামী ২৫ জানুয়ারি তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠেয় বিএনপি’র জনসমাবেশটি কেবল রাজনৈতিক জনসমাগম নয়, এটা বাংলাদেশের সর্বসাধারণের অংশগ্রহণের একটা জনসমাগম হবে বলে দাবি করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এটা একটু ভিন্নধর্মী জনসমাগম হবে। শুধু রাজনৈতিক হবে না। এটার বৈশিষ্ট্য হবে এটা সকলের জনসমাগম। সর্বস্তরের মানুষের জনসমাগম এবং সবাই সেখানে উপস্থিত হতে চাইবে, তারা তারেক রহমানকে একটু দেখতে চাইবে এবং তার কথা শুনতে চাইবে।

তিনি গতকাল সোমবার রাতে মেহেদীবাগ বাসভবনে আগামী ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ডের মাঠে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন এবং মহাসমাবেশের প্রস্তুতি বিষয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, তারেক রহমান চট্টগ্রামে নির্বাচনী ভিজিটে আসছেন। ২৪ জানুয়ারি রাত্রে চট্টগ্রামে আসবেন। রাত্রে অবস্থান করবেন। ২৫ তারিখ পলোগ্রাউন্ডে মাঠে সকাল ১১টায় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। সেই উপলক্ষে, তারেক রহমানের সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য, তাকে স্বাগত জানানোর জন্য চট্টগ্রামবাসী উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছে। উনি দেশে আসার দিন যে জনসমাগম হয়েছে এবং পরবর্তীতে যেখানেই যাচ্ছেন জনগণের যে উৎসাহ উদ্দীপনা দখা যাচ্ছে, চট্টগ্রামেও ইতোমধ্যে সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা চাই চাই জনসভাটি সকলের সহযোগিতা নিয়ে একটি আনন্দঘন উৎসবমুখর পরিবেশে করতে। তাহলে সবার জন্য সুবিধা হবে, সবাই আসবে, স্বস্তি বোধ করবে।

আমীর খসরু বলেন, জনসমাবেশে সর্বস্তরের মানুষের যেহেতু উপস্থিতি থাকবে, তাই এটা কোনো রাজনীতিক জনসমাবেশ হবে না। তারেক রহমান সকলের নেতা, সকলে তার উপস্থিতি, সকলে তাকে একটু দেখতে চান ও তার কথা শুনতে চান। তাই জনসমাবেশে উপস্থিতি রাজনীতিক সমাগমের মধ্যে সীমিত থাকবে না। চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের এখানে উপস্থিতি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এর মধ্যে সেটা আমরা লক্ষ্য করতে পারছি। এইজন্য পুরো বিষয়টাকে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে করতে চাই, এ ব্যাপারে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি।

তিনি বলেন, আমি রিপিট করছি, এটা রাজনৈতিক নেতাকর্মীর সমাগমের বাইরে একটা সভা হবে। বিগত দিনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন পলোগ্রাউন্ডের মাঠে এসেছিলেন, ওই সভায় কিন্তু সমস্ত চট্টগ্রামবাসীর উপস্থিতি ছিল। আগ্রাবাদ এলাকার অফিসাররা তাদের অফিস বন্ধ করে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। স্কুলের ছেলেমেয়েরা উপস্থিত হয়েছিলেন। সাধারণ মানুষ যারা রাজনীতি করে না তারা দেশনেত্রীকে শুধু এক পলক দেখার জন্য সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেই একই উৎসাহ আজ আমরা চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং এই জনসমাগম চট্টগ্রামবাসীর সর্বস্তরের মানুষের জনসমাগমের মাধ্যমে একটা বিশাল জনসমাগম হবে এবং এটা যাতে শান্তিপূর্ণ হয় সেজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী দলকে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, জিয়াউর রহমানকে ও তারেক রহমান সাহেবকে চট্টগ্রামবাসী যেভাবে ভালোবেসেছেন এবং চট্টগ্রামের জনগণ যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, চট্টগ্রামের জনগণের উপর উনাদের যে আস্থা আছে সেটার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাব আগামী ২৫ তারিখের জনসভায়। চট্টগ্রামবাসীও কিন্তু ওনাদের উপর আস্থা রেখেছে এবং নির্বাচনের ফলাফলে এটা প্রতিফলন ঘটবে আমরা বিশ্বাস করি।

সমাবেশে কি পরিমাণ লোক হতে পারে এমন প্রশ্নে আমীর খসরু বলেন, মুশকিল হচ্ছে একটার চেয়ে আরেকটা বড় হতে থাকে। যেমন তারেক রহমান সাহেব যখন দেশে আসলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা, খালেদা জিয়া যখন চট্টগ্রামে আসছিলেন। এটাকে আসলে আমরা সংখ্যাই বলা খুব কঠিন। সুতরাং আমরা ওইভাবে বলতে চাই না। আমরা জানি এখন মানুষ উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছেন, তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসবেন, উনাকে এক নজর দেখবেন, উনার কথা শুনবেন। কারণ দেশবাসীর মধ্যে তার জনপ্রিয়তা, তার কথাগুলো এমনভাবে ট্র্যাকশন পাচ্ছে, জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। সেটার ভিত্তিতে আমরা বলছি, এটা শুধু রাজনৈতিক জনসমাগম হবে না। এটা হবে বাংলাদেশের সর্বসাধারণের অংশগ্রহণের একটা জনসমাগম।

নেতাকর্মীদের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আসনগুলোতে আগামী নির্বাচনে যারা বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সকলে এখানে উপস্থিত আছেন। ওনারা সকলে যার যার এলাকা থেকে নিজেদের নেতাকর্মীদের নিয়ে ইতিমধ্যে সভাকে সফল করার জন্য কাজ শুরু করেছেন।

ভোটের মাঠে এই জনসমাবেশ কী বার্তা দিচ্ছে? এমন প্রশ্নে আমীর খসরু বলেন, ওনার যে জনপ্রিয়তা তা আমরা ইতোমধ্যে দেখতে পাচ্ছি। বিএনপির প্রতি চট্টগ্রামের মানুষের ভালোবাসা একটু ভিন্ন। যতবার সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বিএনপি চট্টগ্রাম থেকে ম্যান্ডেট পেয়েছে। এটা শুধু রাজনীতি না, এটা বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। আগামীর বাংলাদেশ কিভাবে দেখতে চাই জনগণের একটা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন আমরা এখানে দেখতে পাব।

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রে বিএনপিকে আলাদা করা যাবে না। এই দলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের লড়াইয়ে বারবার জিতছে, এবারও গণতন্ত্রের লড়াই বিএনপি জিতবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম(মীরসরাই) আসনের বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম(সন্দ্বীপ) আসনের প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম(সীতাকুণ্ড) আসনের প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম(হাটহাজারী) আসনের প্রার্থী ও বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম(বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও) আসনের প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম৯ আসনের প্রার্থী আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম১০ আসনের প্রার্থী সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম১২ (পটিয়া) আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম১৩ (আনোয়ারা) আসনের প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনের প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদ, চট্টগ্রাম১৫ আসনের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন, চট্টগ্রাম১৬ (বাঁশখালী) আসনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, ৫৩ হাজার অপরাধী গ্রেপ্তার : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
পরবর্তী নিবন্ধবিএনপির মবের মুখে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে ইসি সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়নি : নাহিদ