২১ খাল পুনরুদ্ধারে প্রকল্প নিচ্ছে চসিক

জলাবদ্ধতা নিরসন ।। ডিপিপি প্রণয়নে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে কনসালটেন্ট ।। আগ্রহী ১০ প্রতিষ্ঠান

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ২ অক্টোবর, ২০২২ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর ২১টি খালের উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারে প্রকল্প নিচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এর অংশ হিসেবে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রণয়নে কনসালটেন্ট ফার্ম নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংস্থাটি। এ জন্য দরপত্রও আহ্বান করে। এতে অংশ নেয় ১০টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে খুব শীঘ্রই একটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত করা হবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান-২০১৬ অনুসারে নগরে খাল আছে ৫৭টি। খালগুলোর দৈর্ঘ্য ১৬৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। এর মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন করা হচ্ছে ৩৬ খালের। যার দৈর্ঘ্য ৯৭ কিলোমিটার। অর্থাৎ ৬৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ২১টি খাল প্রকল্পের বাইরে রয়ে গেছে। এসব খাল নিয়েই চসিকের প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হবে।
এ বিষয়ে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, সিডিএর মেগা প্রকল্পভুক্ত ৩৬টি খালের বাইরেও ২১টি খাল আছে। সেগুলো যদি খনন না করা হয় জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলবে না। কারণ একটা খালের সাথে অন্য খালের সম্পর্ক আছে। ২১ খালের অনেকগুলোতে স্থাপনা হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গেছে। তাই এসব খালের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে আমরা প্রকল্প নিচ্ছি। ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে।
আগ্রহী ১০ প্রতিষ্ঠান : চসিকের প্রকৌশল শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২১টি খালের ডিপিপি প্রণয়নের লক্ষ্যে কনসালটেন্ট ফার্ম নিয়োগে গত ২৩ আগস্ট দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ছিল দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। এতে ১০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- সিইজিআইএস, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালটেন্টস লিমিটেড, কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট অ্যান্ড গ্লোবাল সোর্সেস বিডি, ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালটেন্টস লিমিটেড, ডাটা এক্সপার্টস প্রা. লিমিটেড, শেলটেক প্রা. লিমিটেড, প্রফেশনাল এসোসিয়েটস লিমিটেড, ইনফ্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি এবং এডিএসএল। সবগুলো প্রতিষ্ঠানই ঢাকার। দরপত্রে অংশ নেয়া ১০ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিকভাবে ৭টি বাছাই করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে বাছাই করা হবে একটি প্রতিষ্ঠানকে।
যা করবে কনসালটেন্ট ফার্ম : নির্বাচিত কনসালটেন্ট ফার্ম নতুন করে জরিপ করে খাল শনাক্ত করবে। আরএস-বিএস শিটের আলোকে খালের সীমানা নির্ধারণ করবে। খালের উপর থাকা অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করার পাশাপাশি এর পরিমাণও নির্ণয় করবে। খালের পাড়ে রাস্তা নির্মাণে কী পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে এবং এর মূল্য নির্ধারণ করবে। খালের পাড়ে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণে প্রাথমিক নকশা এবং এর ব্যয় প্রাক্কলন প্রস্তুত করবে। পানির প্রবাহ, ঝড় এবং অন্যান্য আবহাওয়া সংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণ করে প্রকল্পের প্রাক সম্ভাব্যতাও যাচাই করবে প্রতিষ্ঠানটি।
এক নজরে ২১ খাল : ওয়াসার ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান-২০১৬ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, সিডিএর মেগা প্রকল্পের বাইরে থাকা ২১ খাল হচ্ছে- চট্টেশ্বরী খাল, মরিয়মবিবি খাল, ১৫ নম্বর ঘাট এয়ারপোর্ট খাল, রামপুর খাল, বালুখালী খাল, কৃষ্ণখালী খাল, কুয়াইশ খাল, ফরেস্ট খাল, উত্তর সলিমপুরের বারিঙ্গাছাড়া খাল এবং ভাটিয়ারির ধামাইর খাল। এছাড়া নেভাল একাডেমি, চরপাড়া, হোসাইন আহমেদ পাড়া, সিইপিজেড নতুন পাড়া, সিইপিজেড আনন্দবাজার, উত্তর হালিশহর, উত্তর কাট্টলী, লতিফপুর এবং সলিমপুর স্লুইসগেইটের ১১টি সংযোগ খাল।
এদিকে সিডিএর মেগা প্রকল্পভুক্ত ৩৬ খাল হচ্ছে- রাজাখালী খাল ১, ২ ও ৩, চাক্তাই খাল, বির্জা খাল, হিজরা খাল, জামালখান খাল, বদরখালী খাল, চাক্তাই ডাইভারশন খাল, নোয়া খাল, মির্জা খাল, ডোমখালী খাল, বামনশাহী খাল, ত্রিপুরা খাল, উত্তরা খাল, শীতলঝর্ণা খাল, মহেশখাল, নাসির খাল, পাকিজা খাল, আজববাহার খাল, নয়ারহাট খাল, গয়নাছড়া খাল ১ ও ২, মহেশখালী খাল, আজবাহার খাল, বাকলিয়া খাল, সদরঘাট খাল ১ ও ২, খন্দকিয়া খাল, গুপ্ত খাল, রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি খাল, নয়ারহাট খাল, টেকপাড়া খাল, মোগলটুলী খাল, কলাবাগিচা খাল ও ফিরিঙ্গি বাজার খাল।
প্রকৌশলীরা যা বললেন : চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে বলেন, প্রাইমারি ডিপিপি করতে যে তথ্য-উপাত্তের প্রয়োজন তার সবটুকুই জানাবে কনসালটেন্ট ফার্ম। এ প্রকৌশলী বলেন, সিডিএর প্রকল্পে ৩৬টি খাল আছে। আমাদের প্রকল্পে ২১টি অন্তর্ভুক্ত হলে শহরের শতভাগ খাল চলে আসবে। এতে সুফল আসবে।
চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুল হুদা বলেন, আমাদের নিয়োগকৃত কনসালটেন্ট ফার্ম ওয়াসার ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানের বাইরেও নতুন করে সার্ভে করবে এবং ডিজাইন উপস্থাপন করবে। তারা যে রিপোর্ট দেবে সে আলোকে ডিপিপি প্রণয়ন করা হবে।
পাঁচ বছর ধরে চলছে আলোচনা : নগরীর ২১ খালের বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে ২০১৭ সালে। ওই বছরের ৯ আগস্ট একনেকে অনুমোদন পায় ৩৬ খালকে ঘিরে সিডিএর গৃহীত ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প। প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয় ওয়াসার মাস্টার প্ল্যান এর ভিত্তিতে। তবে এ মাস্টার প্ল্যানে নগরের ৫৭ খাল থেকে ১৪ লাখ ঘন মিটার কাদা ও মাটি উত্তোলনের প্রস্তাবানা রয়েছে। বিপরীতে সিডিএর গৃহীত প্রকল্পে ৯ লাখ ৪৮ হাজার ২১৪ ঘন মিটার কাদা ও মাটি উত্তোলনের প্রস্তাবনা আছে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় সিডিএর মেগা প্রকল্পে মাটি উত্তোলনের পরিমাণ কম থাকায় প্রশ্ন উঠে মেগা প্রকল্পের সুফল নিয়ে এবং প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় ২১ খাল নিয়ে প্রকল্প প্রণয়নের।
পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ২১ খাল নিয়ে প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানানো হয়। শুরুতে সিডিএ প্রকল্প গ্রহণের কথা বললেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সর্বশেষ ২০২২ সালের ৫ ফেব্রয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের গৃহীত কার্যক্রমের পর্যালোচনা সভায় ২১ খাল নিয়ে চসিকের প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২৬ জুন অনুষ্ঠিত চসিকের বাজেট অধিবেশনে প্রকল্প গ্রহণের ঘোষণা দেন মেয়র।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে : প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধএবার হালদায় মিলল জাটকা ইলিশ