২০০ টাকা চুরির অপরাধে নাতিকে নির্মম নির্যাতন

লামা প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ২৮ জুলাই, ২০২২ at ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ

মাত্র দুইশ’ টাকা চুরি করার অভিযোগে নাতি মো. তামজিদকে (১৩) নির্মমভাবে নির্যাতন করে গ্রেপ্তার হয়েছেন নানা আব্দুল মালেক প্রকাশ মানিক মিয়া (৬৮)। ঘটনাটি ঘটেছে লামা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থ পানির টাংকি এলাকায়।
নাতিকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করার ভিডিওি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পুলিশ গত মঙ্গলবার গভীর রাতে নানা মানিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করে এবং আহত তামজিদকে উদ্ধার করে লামা হাসপাতালে ভর্তি করে। গতকাল মানিক মিয়াকে লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে আদালত তার জামিন না-মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
জানা যায়, লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়াস্থ পানির টাংকি এলাকার রুবিনা আক্তারের স্বামী, স্ত্রী ও ছেলেকে রেখে আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। পারিবারিক অভাব অনটনের কারণে অষ্টম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছেলে তামজিদকে বাবার বাড়িতে রেখে চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে চাকুরি করেন রুবিনা আক্তার। মঙ্গলবার বিকালে নানার পকেট থেকে দুইশ’ টাকা চুরির অভিযোগে নাতি তামজিদকে অমানবিকভাবে পিটিয়ে আহত করে নানা আব্দুল মালেক। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নানা তার নাতিকে বেদম মারধর করছেন। কখনো গাছের সাথে বেধে আবার কখনো মাটিতে ফেলে মারছেন। এক পর্যায়ে নাতিকে শুইয়ে গলায় লাঠি দিয়ে দুই পা দিয়ে চেপে ধরেন তিনি। নাতিকে অমানবিকভাবে মারধরের এ ভিডিও ভাইরাল হলে লামা থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে নানাকে গ্রেপ্তার করে। নাতিকে উদ্ধার করে লামা হাসপাতালে ভর্তি করে।
লামা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রফিক বলেন, নাতিকে অমানবিকভাবে নির্যাতনের খবর পেয়ে পুলিশ নানাকে গ্রেপ্তার করে এবং আমি নিজে পুলিশের সাথে থেকে নাতিকে উদ্ধার করে লামা হাসপাতালে ভর্তি করি। তার চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, শিশু নির্যাতনকারী আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। শিশু তামজিদকে উদ্ধার করে লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে সে মোটামুটি সুস্থ আছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাবুল আক্তারের ভাই ও মাগুরার সমাজসেবা কর্মকর্তাকে ডেকেছেন হাইকোর্ট
পরবর্তী নিবন্ধপটিয়ায় ধর্ষণ মামলায় ছাত্রদল নেতা কারাগারে