১ লাখ ইয়াবা আত্মসাতের ঘটনায় বাকলিয়া থানার ৮ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

| সোমবার , ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৩:১৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন নতুনব্রিজ পুলিশ চেকপোস্টে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগে এসআই থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

মাদকদ্রব্য আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং বৈধ আদেশ অমান্যের অভিযোগে পিআরবি বিধি-৮৮০ অনুযায়ী এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

৪ জানুয়ারি বিকেলে সিএমপির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার ও সদ্য অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়ার স্বাক্ষরিত দুই পৃষ্ঠার অফিস আদেশে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আদেশটি তাৎক্ষণিক কার্যকর করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—বাকলিয়া থানার এসআই মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার; বর্তমানে কোতোয়ালী থানায় কর্মরত এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন; এএসআই সাইফুল আলম, এএসআই মো. জিয়াউর রহমান, এএসআই মো. সাদ্দাম হোসেন ও এএসআই এনামুল হক; কনস্টেবল মো. রাশেদুল হাসান ভূঞা এবং নারী কনস্টেবল উম্মে হাবিবা স্বপ্না।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৮ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলসের একটি এসি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৬৪২) নতুনব্রিজ পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশির সময় কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল মো. ইমতিয়াজ হোসেনের সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে আনুমানিক ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবা যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেন এবং রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে, কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ইয়াবার চালান বহনে সম্মত হয়েছিলেন। তিনি কোনো ছুটি না নিয়ে ইয়াবা ভর্তি লাগেজসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ইয়াবা উদ্ধারের পর কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন ‘সেফ এক্সিট’ চেয়ে পুলিশ সদস্যদের কাছে অনুনয় করেন। এরপর ইয়াবার একাধিক কাট ট্রলি থেকে বের করে নেওয়া হলেও পুরো চালান পুলিশের হেফাজতে রেখে কেবল কাপড়চোপড়সহ ব্যাগটি ফেরত দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। তবে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনের স্বীকারোক্তি, বাসের সুপারভাইজারের বক্তব্য এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যের জবানবন্দিতে পুরো ঘটনা প্রমাণিত হয়।

বিভাগীয় সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীর পাঠানো বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা সংঘবদ্ধভাবে গুরুতর অনিয়ম, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও মাদকদ্রব্য আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

বরখাস্তকালীন সময়ে পুলিশ সদস্যদের দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে নিয়মিত হাজিরা ও রোলকল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসীতাকুণ্ডে ডাকাত ঠেকাতে গিয়ে নৌকাডুবিতে দুই জাহাজ শ্রমিক নিহত
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর ৪২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই