১৯ বেসরকারি কন্টেনার ডিপোর ট্যারিফ বাড়ল ২০ শতাংশ

বন্দর ভবনে ত্রিপক্ষীয় সভায় সিদ্ধান্ত । পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের ভিত্তিতে ৬ মাস পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ২ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠা ১৯টি বেসরকারি কন্টেনার ডিপোর ট্যারিফ ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গতকাল বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে বন্দর ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সভায় ট্যারিফ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী ৬ মাস ২০ শতাংশ হারে বাড়তি চার্জ আদায় করবে বেসরকারি কন্টেনার ডিপোগুলো। তবে তাদের দাবি ছিল ৬০ শতাংশ চার্জ বৃদ্ধি। এই নিয়ে তীব্র বাকবিতন্ডার পর ২০ শতাংশ বর্ধিত চার্জ আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক কিংবা দেশীয় একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইনল্যান্ড কন্টেনার ডিপোর খরচ এবং আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলো হিসেব নিকেশ করে একটি রিপোর্ট প্রদান করবে। ওই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ট্যারিফ বৃদ্ধি কি পরিমাণে হওয়া উচিত বা কতদিন পরে হওয়া উচিত এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সূত্র বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেসরকারি উদ্যোগে ১৯টি বেসরকারি আইসিডি গড়ে তোলা হয়েছে। এসব আইসিডিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেনার হ্যান্ডলিং কিংবা গতিশীলতা এসব আইসিডির কার্যক্রমের উপর বহুলাংশে নির্ভর করে। বেসরকারি আইসিডিগুলোতে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় দ্বিগুণ কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে বলে উল্লেখ করে সূত্র বলেছে যে, চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে কন্টেনার ধারণক্ষমতা ৬০ হাজার টিইইউএসের কাছাকাছি, অথচ বেসরকারি আইসিডিগুলোর ধারণক্ষমতা এক লাখ ছয় হাজার টিইইউএস। বেসরকারি আইসিডিগুলোতে বছরে প্রায় ২২ লাখ কন্টেনার হ্যান্ডলিং হয়। এসব আইসিডিতে রপ্তানির সব পণ্যই কন্টেনারজাত করে জাহাজীকরণের জন্য বন্দরে পাঠানো হয়। বন্দর থেকে আনা হয় বিদেশ থেকে ফেরত আসা খালি কন্টেনার।

বেসরকারি আইসিডি মালিকদের সংগঠন বিকডা গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯টি ডিপোতে বিভিন্ন সেবার চার্জ বৃদ্ধি করে। এই বৃদ্ধির হার গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বলে ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। ব্যবসায়ীরা ওই সময় অভিযোগ করেছিলেন যে, ট্যারিফ কমিটির মতামত বা কোন তোয়াক্কা না করে বিকডা একতরফাভাবে কন্টেনার হ্যান্ডলিং চার্জ গড়ে ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়ে ভয়াবহ রকমের সংকট তৈরি করেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতে গড়ায় এবং মামলা মোকদ্দমার কারণে বিকডা চার্জ বৃদ্ধি করতে পারেনি।

বেসরকারি ডিপোর একজন কর্মকর্তা বলেন, চার্জ বৃদ্ধি না হওয়ায় ডিপো মালিকদের খরচ পোষাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় তাদের পক্ষে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে ডিপো মালিকেরা গত ১১ ডিসেম্বর থেকে বন্দর থেকে কোন খালি কন্টেনার ডিপোতে নেবে না, করবে না কোন খালি কন্টেনার হ্যান্ডলিং। একইসাথে ডিপোতে এনে রপ্তানি পণ্য কন্টেনারজাত করে বন্দরে পাঠানোর কাজও তারা করবে না। ফলে খালি কন্টেনার হ্যান্ডলিং এবং রপ্তানি পণ্য বোঝাই কন্টেনার হ্যান্ডলিং বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। পরবর্তীতে বন্দর চেয়ারম্যানের অনুরোধে বিকডা একমাসের জন্য কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে।

গতকাল সকালে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিকডার প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব খলিলুর রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট হাজী মোহাম্মদ হোসেন, বেনজির চৌধুরী, পরিচালক ইয়াসের রিজভী, ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম, বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার, বিজিএমইএ’র সাইফুল্লাহ মনসুর, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্সের খায়রুল আলম সুজনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বন্দরের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে দুইঘণ্টা। এর মধ্যে বিকডা ৬০ শতাংশ ট্যারিফ বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলে, খরচ বেড়ে গেছে। এতো বাড়তি খরচ সামাল দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বিকডার এই দাবির বিরোধীতা করে ব্যবহারকারীদের সংগঠনগুলো। তারা ১০ শতাংশ ট্যারিফ বাড়ানোর প্রস্তাব করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। উভয়পক্ষের তীব্র বাকবিতন্ডার মাঝে পরবর্তীতে ২০ শতাংশ ট্যারিফ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী ৬ মাস ২০ শতাংশ বর্ধিত ট্যারিফ আদায় করা হবে। পরবর্তীতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের ভিত্তিতে ট্যারিফের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিকের বই পেল শতভাগ শিক্ষার্থী
পরবর্তী নিবন্ধ‘ফিরোজা’ সুনসান, শূন্যতা পাশের বাড়িতেও