১৮ জলদস্যু ও পাচারকারী আটক, জিম্মি ও ভাসমান ১২ জন উদ্ধার

কক্সবাজারে কোস্টগার্ডের তিন অভিযান

কক্সবাজার প্রতিনিধি | রবিবার , ১২ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে পৃথক তিনটি অভিযানে ১০ জন সক্রিয় জলদস্যু এবং ৮ জন পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এসব অভিযানে দস্যুদের কবলে জিম্মি থাকা ৩ জেলে এবং গভীর সমুদ্রে ভাসমান ৯ বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে কোস্টগার্ড কঙবাজার স্টেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কোস্টগার্ড স্টেশন কক্সবাজারের একটি আভিযানিক দল কলাতলী সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি সন্দেহভাজন ফিশিং বোট পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে সেটি আটক করা হয়। বোটটি তল্লাশি করে ২টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং দেশীয় অস্ত্রসহ ‘পারভেজ বাহিনী’র ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে ওই বোট থেকে জিম্মি অবস্থায় ৩ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে কোস্টগার্ড।

তবে আটক ব্যক্তিদের স্বজনরা ভিন্ন দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, জেলেদের দুটি পক্ষের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে উখিয়ার সুলতান মাঝির বোটের লোকজন পরিকল্পিতভাবে অন্য বোটের ১০ জেলেকে ডেকে নেয়। এরপর কোস্টগার্ডকে খবর দিয়ে তাদের ‘জলদস্যু’ সাজিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বজনরা আরও দাবি করেছেন, ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে কোস্টগার্ড এই আটকের নাটক সাজিয়েছে। এদিকে, শুক্রবার রাত ১২টা এবং ভোর ৩টায় চট্টগ্রাম ও কঙবাজারের বাঁকখালী নদীর মোহনায় পরিচালিত পৃথক দুটি অভিযানে ৮ পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৫ হাজার লিটার ডিজেল, লুব্রিকেন্ট ও গ্যাস সিলিন্ডারসহ ৫ জনকে এবং ৪৫০ বস্তা সিমেন্টসহ আরও ৩ পাচারকারীকে আটক করা হয়। জব্দকৃত এসব মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়াগামী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া ৮ জন পুরুষ ও ১ জন নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ নামক একটি বাংলাদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের উদ্ধার করে। গত শুক্রবার ভোররাত ২টায় জাহাজটি উদ্ধারকৃতদের কোস্টগার্ড জাহাজ ‘মনসুর আলী’র কাছে হস্তান্তর করে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন জানান, আটককৃত ডাকাত ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে এবং উদ্ধারকৃত মালামাল ও ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে প্রাক্তন ছাত্রী সংবর্ধনা
পরবর্তী নিবন্ধঅকেজো ডেমুগুলো হবে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেন