সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একই পরিস্থিতিতে ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দাগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে পাঁচ হাজারের বেশি যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থগিত ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে। সাময়িক অসুবিধার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তাঁদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।
এদিকে রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকার কারণে ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটের ফ্লাইট আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করেছে ইউএস–বাংলা এয়ারলাইন্স। নতুন সময়সূচি নির্ধারিত হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জানানো হবে। ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা ও পুনরায় টিকিট বুকিংয়ের বিষয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে এয়ারলাইন্সের বিক্রয়কেন্দ্র বা নির্ধারিত ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এঙে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। এ কারণে কার্যক্রম স্থগিত রাখার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। বিমানবন্দরটি কবে চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জানা যায়, বিমানবন্দরের রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিমান চলাচল খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফ্লাইট চালুর আগে এসব সরঞ্জাম পরীক্ষা এবং রানওয়ের নিরাপত্তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরবর্তী হামলায় এক পাকিস্তানি প্রবাসী নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হামলার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ঢাকা থেকে ৫১ ফ্লাইট বাতিল : ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দাগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বাতিল হওয়া এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে পাঁচ হাজার ৪১৮ জন বাংলাদেশে আটকা পড়েছেন। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চারটি, ইউএস–বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি এবং রিয়াদ এয়ার ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের তিনটি করে ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ইনডিগোর ১৬টি, সালামএয়ারের তিনটি, ইজিপ্টএয়ারের একটি, এমিরেটসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের পাঁচটি ফ্লাইট রয়েছে।
রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের আকাশপথে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল সোমবার রিয়াদ বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এর আগের দিন রোববার বিমানবন্দরটির নির্ধারিত ফ্লাইটের ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশই পরিচালিত হয়নি বলে বিমান চলাচল বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল পাকিস্তান ও রিয়াদের মধ্যে চলাচলের কথা থাকা ৩২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ও সেখানে অবতরণের কথা থাকা আরও বহু ফ্লাইট বাতিল অথবা বিলম্বিত হয়েছে। দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হয়েছে। জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫৬টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৩৭৪টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে বলে বিমান চলাচল–সংক্রান্ত তথ্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার এবং দেশটিতে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। রয়টার্স জানিয়েছে, চলমান সামরিক তৎপরতা ও নেভিগেশন ব্যবস্থায় বিঘ্নের আশঙ্কায় মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোকে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এফএএর সতর্কবার্তাটি ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পর, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানসহ কয়েকটি দেশ নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে আকাশপথে যাতায়াতে বিঘ্ন অব্যাহত থাকতে পারে।












