কাজীর দেউড়ির খান বাড়ির ছোট্ট ছেলেটি যখন হাঁটি হাঁটি পা পা করছিল তখন ঘরে দেখছিল দেশের ক্রিকেট লিজেন্ড আকরাম খানকে। বাবা বিখ্যাত ফুটবলার এবং ক্রিকেটার ইকবাল খানকে। আজম খান, আফজাল খান, আকবর খানদের মত ক্রিকেটারকে। তাদের হাত ধরেই তামিম ইকবালও এলেন ক্রিকেটের সবুজ আঙিনায়। ঘরের সামনে আউটার স্টেডিয়ামে খেলেছেন বাবা, চাচা ছাড়াও দেশের বিখ্যাত ক্রিকেটারদের সঙ্গে। এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে ডুবিয়ে দিলেন ক্রিকেটে। সেই ১২, ১৩ বছর বয়স থেকেই তামিম মানে চার আর ছক্কার ফুলঝুরি। এরপর সরল রেখার মত চলতে থাকে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। অনূর্ধ্ব–১৪, ১৫, ১৭, ১৯ পেরিয়ে তামিম প্রবেশ করলেন জাতীয় দলের বিশাল ক্যানভাসে। ১৯৮৯ সালের ২০ মার্চ জন্ম নেওয়া তামিমের জাতীয় দলে অভিষেক হয় ২০০৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। তার বয়স তখন মাত্র ১৭ বছর ১০ মাস ২০ দিন। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি তামিম। এগিয়ে চলেছে তার ক্যারিয়ারের রথ। গতকাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণার আগ পর্যন্ত। ২৪১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩৬.৬২ গড়ে ৮৩১৩ রান করেছেন। সেঞ্চুরি করেন ১৪টি। হাফ সেঞ্চুরি ৫৬টি। সর্বোচ্চ রান ১৫৮। চার মেরেছেন ৯১৬টি। আর ছক্কা মেরেছেন ১০৩টি।
২০০৮ সালের ৪ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তামিমের। সেই থেকে এ বছরের এপ্রিলে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা শেষ টেস্টটিসহ তিনি টেস্ট খেলেছেন ৭০টি। ১৩৪ ইনিংসে রান করেছেন ৫১৩৪। গড় ৩৮.৮৯। সেঞ্চুরি ১০টি আর হাফ সেঞ্চুরি ৩১টি। সর্বোচ্চ রান ২০৩। চার মেরেছেন ৬৫৫টি আর ছক্কা ৪১টি। টি–টোয়েন্টিতে তামিমের অভিষেক হয় ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর কেনিয়ার বিপক্ষে নাইরোবিতে। সেই থেকে ২০২০ সালের মার্চে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা শেষ ম্যাচটিসহ তামিম টি–টোয়েন্টি খেলেছেন ৭৮টি। রান করেছেন ১৭৫৮। সেঞ্চুরি করেছেন একটি আর হাফ সেঞ্চুরি ৭টি। এই সংস্করণে দেশের হয়ে একমাত্র তামিমই সেঞ্চুরি করেছেন। সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ১০৩। তিন সংস্করণ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৫ সেঞ্চুরি করা তামিমের রান তিন সংস্করণ মিলিয়ে ১৫ হাজার ২০৫ রান। গতকাল সে যাত্রায় পড়ে গেল ফুল স্টপ।












