দীর্ঘ ১৪ বছর পর চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে চালু হয়েছে লোকাল বাস সার্ভিস। শাহ আমানত নামে একটি পরিবহন সংস্থার উদ্যোগে এই সার্ভিস চালু করা হয়। গতকাল সোমবার প্রথমদিনেই যাত্রীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন বলে জানান সার্ভিস সংশ্লিষ্টরা। লোকাল বাস সার্ভিসের উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে প্রতিদিন কাপ্তাই-রাঙ্গুনিয়া-রাজস্থলী-রাউজান-হাটহাজারী উপজেলাসহ তিন পার্বত্য জেলার হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। এই সড়কে ১৯৬২ সালে বাস সার্ভিস চালু করা হয়। ১৯৮৮ সালে চালু হয় বিরতিহীন সার্ভিস। পাশাপাশি লোকাল বাস চলাচল অব্যাহত ছিল। কিন্তু সিএনজি চালিত অটোরিকশার দৌরাত্মে লোকাল বাস সার্ভিস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় বাস মালিক সমিতি।
২০০৯ সালে এই সড়কে গণপরিবহন বন্ধের পর থেকে ‘গলাকাটা’ ভাড়ার শিকার হচ্ছিল সাধারণ যাত্রীরা। তখন থেকে এই সড়কে চালু থাকা বিরতিহীন সার্ভিসে ওঠানামা সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ৩৮ টাকা। ফলে স্বল্প দূরত্বে চলাচল করা যাত্রীদের ভরসা ছিল সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এই সুযোগে বেশি ভাড়া আদায় করছেন অটোরিকশা চালকরা। তারা কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নিচ্ছেন ১০ টাকা হারে, অথচ লোকাল বাসে নেওয়া হতো মাত্র দুই টাকা। এখন কাপ্তাই-লিচুবাগান-বহাদ্দারহাট পর্যন্ত লোকাস বাস চালু হওয়াতে যাত্রীদের সেবার মান বেড়েছে। যাত্রীদের আর বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বাস মালিক সমিতির নারায়ন দে বলেন, প্রথম দিকে আমরা ১৫-২০টা বাস দিয়ে লোকাল সার্ভিস চালু করেছি। চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট থেকে লিচুবাগান পর্যন্ত এই সার্ভিস চলবে। লিচুবাগান থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত ৭০ টাকা এবং এরমধ্যে স্বল্প গন্তব্যের অন্যান্য স্টেশনের ক্ষেত্রে দূরত্ব অনুসারে ন্যায্য ভাড়া নেয়া হবে। সোমবার প্রথমদিন যাত্রীরা ভাল সাড়া দিয়েছেন। আমরা যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনে লোকাল সার্ভিসে আরও বাস যুক্ত করবো।
কাপ্তাই সড়কে লোকাল বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। এই সার্ভিস যেন অব্যাহত থাকে এবং এই সড়কে চলাচল করা অন্যান্য বাস সার্ভিসগুলোও যেন লোকাল সার্ভিস চালু করে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যাত্রীরা।
লোকমান হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, লোকাল বাস সংকটে সাধারণ যাত্রীদের দ্বিগুন ভাড়া পরিশোধসহ নানাভাবে হয়রানি ও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বছরের দুই ঈদসহ নানা উৎসবে এই ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। সড়কে লোকাল বাস চলাচল বন্ধ থাকায় স্বল্প আয়ের মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী এবং চট্টগ্রাম শহরে কর্মরত হাজার হাজার চাকরিজীবী বেকায়দায় পড়েন। এমনকি সিএনজি অটোরিকশায় অদক্ষ চালকের কারণে এই সড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। এখন লোকাল সার্ভিস চালু হয়েছে শুনে ভাল লাগছে। তবে যেনো নির্ধারিত নিয়ম মানা হয় এবং দক্ষ ও অভিজ্ঞ চালক দিয়ে যেন এসব পরিবহন চালানো হয়, সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
প্রমোদ বড়ুয়া বলেন, কাপ্তাই সড়কে লোকাল বাস সার্ভিসের জন্য আমরা এক সময় আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলাম। এমনকি মামলা পর্যন্ত পরিচালনা করেছিলাম। এক সময় বাস কিংবা টেম্পো সার্ভিসও চালু ছিল এই সড়কে। কিন্তু সিএনজি অটোরিকশা আসার পর থেকে এসব বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আবারও বাস সার্ভিস সার্ভিস চালু করেছে সেটি অবশ্যই ভাল উদ্যোগ। তবে কিছুদিন চালিয়ে যেনো এটি আবার বন্ধ করে দেয়া না হয়।












