৪৮ ঘণ্টার কম সময়ে ৮২ হাজার টন ক্রুড অয়েল খালাস করা হয়েছে। আগে এই তেল খালাস করতে সময় লাগত ১১ দিন। আজ রোববার থেকে শুরু হবে ৬০ হাজার টন ডিজেল খালাসের কার্যক্রম। মাত্র ৩৬ ঘণ্টায় পুরো জাহাজের তেল খালাস করা হবে। আগে ৩০ হাজার টন ডিজেল খালাস করতে সময় লাগত ৫ দিন।
দ্রুত জ্বালানি তেল খালাসের এই কার্যক্রম দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি বছরে ৮০০ কোটির বেশি টাকা সাশ্রয় করবে। গভীর সাগরে বাস্তবায়িত ‘ইন্সটলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ প্রকল্পের আওতায় জ্বালানি তেল খালাসের এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শুরুতে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। সবকিছু ঠিক করার পর পরীক্ষামূলকভাবে দুটি জাহাজ থেকে ক্রুড অয়েল এবং ডিজেল খালাসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সূত্রে জানা যায়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাসহ তেল খালাসে গতি আনতে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। কঙবাজারের কুতুবদিয়ার অদূরে গভীর সমুদ্রে ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। এই প্রকল্পের আওতায় গভীর সমুদ্র থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পর্যন্ত অফশোর এবং অনশোর মিলে মোট ২২০ কিলোমিটার ডাবল পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১৪৬ কিলোমিটার অফশোর পাইপলাইন এবং ৭৪ কিলোমিটার অনশোর পাইপলাইন রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পাইপলাইন ছাড়াও মহেশখালীতে ১ লাখ ২৫ হাজার টন ক্রুড অয়েল এবং প্রায় ৮০ হাজার টন ডিজেল সংরক্ষণের ট্যাংক নির্মাণ করা হয়। আমদানিকৃত ক্রুড অয়েল এবং ডিজেল ওই দুটি ট্যাংকে সংরক্ষণ করা হবে। ওখান থেকে দুটি পাইপলাইনের একটি দিয়ে ক্রুড অয়েল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এবং অপর পাইপলাইন দিয়ে ডিজেল পদ্মা অয়েল কোম্পানি, যুমনা অয়েল কোম্পানি এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের পতেঙ্গার গুপ্তাখাল প্রধান ডিপোতে পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
জার্মানির একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। গত জুলাই মাসে গভীর সাগর থেকে জ্বালানি তেল খালাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ক্রুড অয়েল খালাস শুরু হলে পাইপলাইনসহ প্রকল্পে কিছু ত্রুটি ধরা পড়ে। তাই পাইপলাইনে তেল খালাস বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। ক্রটি সারিয়ে তোলার পর বৃহস্পতিবার বিকালে সৌদি আরব থেকে আমদানিকৃত ৮২ হাজার টন ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজকে বঙ্গোপসাগরে স্থাপিত ভাসমান জেটিতে (এসপিএম বয়া) বার্থিং দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করে শুরু হয় ক্রুড অয়েল খালাসের কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত রাতে ৮২ হাজার টন ক্রুড অয়েল খালাস সম্পন্ন হয়েছে। গভীর সাগর থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মহেশখালীর ট্যাংক ফার্ম এলাকার ট্যাংকে ক্রুড অয়েল সংরক্ষণ করা হয়েছে। সুবিধাজনক সময়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে এসব ক্রুড অয়েল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পাঠানো হবে। এখান থেকে পরিশোধন শেষে তা বিপণন কোম্পানিগুলোর নিকট সরবরাহ করা হবে।
অপরদিকে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসা অপর একটি জাহাজের তেল খালাস শুরু হবে আজ রোববার থেকে। ৩৬ ঘণ্টায় এসব তেল খালাস করে জাহাজ ফেরত যাবে। গভীর সমুদ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল খালাসের এই কার্যক্রমের ফলে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি বছরে বিপিসির অন্তত ৮শ কোটি টাকার পরিবহন ব্যয় সাশ্রয় হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশনন্স) মুস্তফা কুদরুত–ই–ইলাহী গতকাল আজাদীকে জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের জ্বালানি তেল খালাস প্রক্রিয়া বিশ্বমানে উন্নীত হয়েছে। এতে দেশের জ্বালানি তেল পরিবহনের ধারণা পাল্টে যাবে। গভীর সাগরে তেল খালাসের সুবিধার জন্য বড় বড় জাহাজে তেল আনা যাবে। এতে জাহাজ ভাড়া বহুলাংশে কমে আসবে। এছাড়া তেল লাইটারিং করার ক্ষেত্রে বিপিসির যে ব্যয় তাও সাশ্রয় হবে। পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল খালাসের ফলে লাইটারিং করার প্রয়োজন হবে না। প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ভিন্ন উচ্চতা লাভ করতে যাচ্ছে।












