নগরীর খুলশীর টাইগারপাস বাটালি হিলে ছিনতাইকাজে বাধা দিতে গিয়ে পুলিশের এক সদস্য খুনের মামলায় ১০ ছিনতাইকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদেরকে প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন– মো. জাবেদ, নুরুল আলম, সুমন মোল্লা, হারুন অর রশিদ, তপন চন্দ্র সরকার, মিন্টু দাশ, আরছাল ওরফে রাসেল, ফারুক ওরফে বুলেট ফারুক, মো. সোহেল ও মো. বাবুল। রায় ঘোষণার সময় তাদের মধ্য থেকে ৫ জন কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন। বাকী ৫ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ সাহেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, আসামিদেরকে করা জরিমানা থেকে আড়াই লাখ টাকা ভিকটিম পুলিশ সদস্যের পরিবারকে দেওয়ার জন্য নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক। পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ১৪ জনের সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়েছে বলেও জানান বেঞ্চ সহকারী। আদালতসূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর বাটালি হিলের বালুর মাঠ এলাকায় বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত কনস্টেবল আবদুল কাইয়ুম খুনের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন বাটালি হিলে পিডব্লিউডি কলোনির সামনে শতায়ু অঙ্গনে হাঁটতে গিয়ে দুই ব্যক্তি ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। বিষয়টি নজরে পড়লে পাশের ডিআইজি বাংলোয় কর্মরত কনস্টেবল কাইয়ুমসহ ৫ কনস্টেবল ছিনতাইকারীদের বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছিনতাইকারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ৫ কনস্টেবলের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে কনস্টেবল কাইয়ুম গুরুতর আহত হয়ে নিহত হন। আদালতসূত্র আরো জানায়, মামলাটির তদন্ত কাজ শেষ করে পুলিশ আদালতে ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আদালত চার্জশিটভুক্ত উক্ত ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। প্রসঙ্গত, আবদুল কাইয়ুম চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ২০১২ সালের ৬ অক্টোবর কনস্টেবল হিসেবে পুলিশে যোগদান করেন।












