১০ এমপির পাশাপাশি ১৪১ জন হতে চান আওয়ামী লীগের প্রার্থী

সবচেয়ে বেশি ফটিকছড়ি ও বাঁশখালীতে

শুকলাল দাশ | বুধবার , ২২ নভেম্বর, ২০২৩ at ৭:১২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে নগরীতে চারটি আসন ছাড়া (চট্টগ্রাম ৮, , ১০ ও ১১) উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১২টি আসনে বর্তমান সংসদ সদস্যদের সাথে নৌকার প্রতিযোগিতায় আছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৪১ জন নেতা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে গত চার দিনে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করেছে। এর মধ্যে হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি আসনে আওয়ামী লীগের জোট ও শরিক দলের এমপি রয়েছেন। বাকি ১০টি আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্যরা রয়েছেন।

বিপুল সংখ্যক মনোনয়ন প্রত্যাশী অতীতে ছিলেন না। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশিরভাগই তরুণ। এত বেশি নেতা মনোনয়ন চাওয়ায় বর্তমান এমপিদের অনেকে টেনশনে পড়েছেন। তবে ফুরফুরে মেজাজে আছেন উত্তর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া আসনের তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এই আসনে হাছান মাহমুদ ছাড়া আর ১ জন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়ে জমা দিয়েছেন। বাকি ১৫ আসনে ৩ জন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০ জন পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।

চট্টগ্রাম ১৩ আনোয়ারকর্ণফুলী আসনে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ তিনজন মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। চট্টগ্রাম ৬ রাউজান থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর পাশাপাশি আরো ৮ জন ফরম নিয়েছেন।

চট্টগ্রাম১ মীরসরাই আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন ৪ জন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পুত্র উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহবুবুর রহমান রুহেল, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট ও মোহাম্মদ মোস্তফা ফরম নিয়ে জমা দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম ২ (ফটিকছড়ি) : এই আসন থেকে সর্বোচ্চ ২০ জন ফরম নিয়েছেন। এরা হলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, প্রয়াত সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের সন্তান সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাদাত আনোয়ার সাদী, উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মো. আবু তৈয়ব, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ফখরুল আনোয়ার, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সিডিএ বোর্ড মেম্বার এম এ আজিম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও প্রয়াত সংসদ সদস্য নুরুল আলম চৌধুরীর ছেলে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাসিবুন সুহাদ চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোহাম্মদ শাহজাহান, বেলাল মোহাম্মদ নুরী, মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলী, আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, ছৈয়দ রাজিয়া মোস্তফা, মো. হারুণ, তৌহিদ মো. ফয়সাল কামাল, সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী, মুহাম্মদ ছালামত উল্লাহ চৌধুরী, সাবরিনা চৌধুরী, কাজী মো. তানজীবুল আলম ও খোরশেদ আহমেদ জুয়েল।

চট্টগ্রাম ৩ (সন্দ্বীপ) : এই আসন থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ১২ জন। বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা একেএম বেলায়েত হোসেন, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. রাজিবুল আহসান, জেলা যুবলীগের সহসভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মো. জাফর উল্লাহ, মানিক মিয়া তালুকদার, মহিউদ্দিন আহমেদ, মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, সারওয়ার হাসান জামিল, রুমানা নাসরীন, রফিকুল ইসলাম, মো. ইউছুপ আলী জীবন ফরম নিয়েছেন।

চট্টগ্রাম ৪ (সীতাকুণ্ড ও সিটি কর্পোরেশনের আংশিক) : এই আসন থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়ে জমা দিয়েছেন ১১ জন। বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলমসহ ফরম নিয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য লায়ন মোহাম্মদ ইমরান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আল মামুন, নগর আওয়ামী লীগের সদস্য ড. নিছার উদ্দীন আহমেদ মনজু, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল্লাহ আল বাকের ভূইয়া, আবু মনির মোহাম্মদ শহীদুল হক চৌধুরী, মহি উদ্দিন, মোহাম্মদ পারভেজ উদ্দীন, চৌধুরী মোহাম্মদ জিন্নাত আলী ও রতেন্দু ভট্টচার্য্য।

চট্টগ্রাম ৫ (হাটহাজারী ও সিটি কর্পোরেশনের আংশিক) : এখান থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইউনুস গনি চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য মাহমুদ সালাউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, মোহাম্মদ ইউনুছ, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোহাম্মদ নাছির হায়দার করিম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের বাসন্তী প্রভা পালিত, মোহাম্মদ শামীম, মনজুরুল আলম চৌধুরী, ডা. নুর উদ্দিন জাহেদ ও মাসুদুল আলম।

চট্টগ্রাম ৬ (রাউজান) : এই আসনে ফরম নিয়েছেন সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীসহ ৮ জন। অন্যরা হলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিত, ইমরানুল কবির, মোহাম্মদ আবুল কালাম, বখতেয়ার উদ্দিন খান, মো. মুসলিম উদ্দিন চৌধুরী ও মো. ছালামত আলী।

চট্টগ্রাম ৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর আংশিক) : এখান থেকে ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপিসহ ২ জন। অন্যজন হলেন মো. ওসমান গনি চৌধুরী।

চট্টগ্রাম ১২ (পটিয়া) : এই আসন থেকে ফরম নিয়ে জমা দিয়েছেন ১৬ জন। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরী ছাড়াও নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বদিউল আলম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাশ, আওয়ামী লীগ নেতা ও সিডিএর বোর্ড সদস্য মোহাম্মদ ফারুক, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য চেমন আরা বেগম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাশেদ মনোয়ার, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রশীদ, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবুল কালাম আজাদ চৌধুরী, পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ, আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন রানা, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ, সাবেক ফুটবলার সত্যজিৎ দাশ রুপু, আওয়ামী লীগ নেতা জুলকারনাইন চৌধুরী, মোহাম্মদ হাবীবুল হক চৌধুরী ও মো. মহিউদ্দিন।

চট্টগ্রাম ১৩ (আনোয়ারা ও কর্ণফুলী) : এই আসন থেকে নিয়েছেন ৩ জন। এরা হলেন সংসদ সদস্য ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহজাদা মহিউদ্দিন ও সমীরন নাথ।

চট্টগ্রাম ১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার একাংশ) : এখান থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ১৭ জন। এরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও রিহ্যাব চট্টগ্রামের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য আবু আহমেদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মীর মো. মহিউদ্দিন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহিদা আকতার জাহান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য মামুন উল হক চৌধুরী, ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমদ আসিফ, আফতাব মাহমুদ, নাছির উদ্দীন, এম মাসুদ আলম চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, মোহা. কায়কোবাদ ওসমানী, উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল জব্বার চৌধুরী, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. আবুল বশর ভূইয়া ও মাহবুবুর রহমান।

চট্টগ্রাম ১৫ (লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার একাংশ) : এখান থেকে নিয়েছেন ১৫ জন। এরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাংবাদিক আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব, সৈয়দ মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, ডা. ..ম মিনহাজুর রহমান, সাজেদা সুরাত, মো. মইনুল ইসলাম মামুন, কামরুন নাহার, মোহাম্মদ আমান উল্লাহ জাহাঙ্গীর, মো. এরশাদুল হক, মো. জসীম উদ্দিন চৌধুরী, মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী ও দেলোয়ার হোসেন।

চট্টগ্রাম ১৬ (বাঁশখালী) : এই আসন থেকে নিয়েছেন ১৯ জন। এরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুজিবুর রহমান সিআইপি, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ.এইচ.এম জিয়া উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা. মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সুলতানুল করিব চৌধুরীর সন্তান বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব সাদলী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ওমর গনি এমইএস কলেজের অধ্যক্ষ আ... সরওয়ার আলম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন মনসুর, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোহাম্মদ জমির উদ্দিন সিকদার, আবু নাছের, আরেফ উল হক, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মুহম্মদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মেজর (অব.) প্রকৌশলী সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী শামস, আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি, কর আইনজীবী ও সংগঠক লায়ন শেখর দত্ত, আরিফ উল হক, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ সৈয়দুল মোস্তফা চৌধুরী রাজু ও নাজমা আক্তার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকিছু লোকের লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা অমানবিক : প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধনৌকার মাঝি হতে চান ২২১ জন