কক্সবাজার–১ চকরিয়া–পেকুয়া সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন এক হেভিওয়েট প্রার্থীর বিপরীতে নতুন দুই মুখ। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ ও জামায়াত ইসলাম মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক। এ আসনে ১৯৯১ সালে জামায়াত ইসলাম সমর্থিত এনামুল হক মনজু নির্বাচিত হলেও আবদুল্লাহ আল ফারুক একেবারেই নতুন মুখ। ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখার প্রার্থী ছরওয়ার আলম কুতুবীও এ আসনে নতুন প্রার্থী।
সালাহউদ্দিন আহমদ এ আসনে তিনবারের নির্বাচিত সাবেক এমপি। তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরামের অন্যতম প্রভাবশালী এ সদস্য একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত। এলাকায় তার জনপ্রিয়তাও বেশ উল্লেখযোগ্য।
এদিকে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটারদের মাঝে নির্বাচনের আমেজ ততই বাড়ছে। পাড়া মহল্লার দোকানে জমে উঠেছে নির্বাচনের গল্প। চায়ের কাপে ঝড় তুলে চলছে তর্ক–বিতর্ক। বিগত কয়েক দশকের নির্বাচন আমেজপূর্ণ না হওয়ায় মানুষ এবারের নির্বাচনকে দেখছে ভিন্ন রূপে।
নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম এখন অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমও। ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে গান, ভোটারদের মন্তব্যসহ আকর্ষণীয় ভিডিও কন্টেন্ট প্রচার করে প্রার্থীরা ভোট প্রার্থনা করছেন নেট দুনিয়ায়। প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা থেকে শুরু করে ব্যতিক্রমী আয়োজন করে দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। বাদ যাচ্ছে না তরুণ শিক্ষার্থীরাও। তাদের নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে প্রশ্ন উত্তর অনুষ্ঠান ও মেধাবৃত্তির। এতে অভিভাবকদেরও বেশ সাড়া মিলছে। প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা সভা সমাবেশে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উন্নয়ন আর ভোটারদের অধিকার রক্ষা ও দাবি পূরণ করাসহ নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। এদিকে প্রতিশ্রুতি রক্ষার পাশাপাশি ভোটারদের সমস্যা সমাধানে কোন প্রার্থী কতটুকু অবদান রাখতে পারবেন তা বিবেচনায় রাখছেন ভোটাররা। সর্বোপরি চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা।
চকরিয়া–পেকুয়া আসনের নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ভোটার এলাকার উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করার মত যোগ্য প্রার্থীর দিকে ঝুঁকছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপির বিকল্প নেই। বিএনপির আরেক নাম গণতন্ত্র। দেশের উন্নয়ন মানেই ধানের শীষ। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ধানের শীষে রায় দিয়ে বিএনপিকে সরকারে পাঠাতে হবে। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ইনসাফ ভিত্তিক দেশ গড়ার লক্ষে জামায়াত ইসলাম সবসময় শান্তির বার্তা বহন করে চলছে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা ও উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে মানুষ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে ইনশাআল্লাহ।
ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী ছরওয়ার আলম কুতুবী বলেন, ইসলামী শরীয়া আইন বাস্তবায়নের ডাক দিয়ে পীর সাহেব চরমোনাই। কোনো ভ্রান্ত আকিদায় নয়, নেতা নয়– নীতি চাই এই স্লোগানে মানুষ হাতপাখাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।
জানা যায়, কক্সবাজারের অতি গুরুত্বপূর্ণ কক্সবাজার–১ আসনটি চকরিয়া ও পেকুয়া দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত। চকরিয়া উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে এই আসনটি গঠিত। এ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হজার ৪৯০ জন। তদ্মধ্যে চকরিয়া উপজেলায় ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৭৪০ জন, পেকুয়া উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫০ জন। এ দুই উপজেলায় পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯০ হাজার ২৯১ জন, মহিলা ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৮ জন।
ক্যাপশন :
সালাহউদ্দিন আহমদ, আবদুল্লাহ আল ফারুক ও ছরওয়ার আলম কুতুবী












