হাসিনার রায় ঘোষণা নিয়ে ফের নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য পাঁয়তারা চলছে : ফখরুল

| সোমবার , ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ at ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ

মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে একটি মহল দেশে ফের নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আগামীকাল (আজ) ফ্যাসিস্ট হাসিনার গণহত্যার বিরুদ্ধে যেটা ট্রায়াল হয়েছে তার রায় বেরুবে। এই নিয়ে একটা চরম, আপনার বলা যেতে পারে যে একটা অনিশ্চয়তা, একটা আতঙ্ক সারা দেশে বিরাজ করছে। এটা বলার কোনো অপেক্ষা রাখে না। একটা মহল এটা নিয়ে বাংলাদেশে আবার একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করার জন্য পাঁয়তারা করছে। এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়নোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় কথা বলছিলেন মির্জা ফখরুল। গণতন্ত্রের পথে উত্তরণের সুযোগ যেন হারিয়ে না যায় সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রজনতার গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে সুযোগ আমরা পেয়েছি সেই সুযোগ যেন আমরা নষ্ট না করি এবং গণতন্ত্রের উত্তরণের পথকে যেন আমরা আরো সহজ করে তুলি, সেই লক্ষ্যে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, আসুন, আমরা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করব, ঐক্যবদ্ধ থেকে আমরা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাই। মওলানা ভাসানীর যে আদর্শ সেই আদর্শকে সামনে রেখে আমরা যেন এখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে বাংলাদেশের রাজনীতি একটা বিভ্রান্ত অবস্থার মধ্যে চলে যাচ্ছে, কনফিউজ পলিটিঙ। এমন এমন জিনিস এখানে এসে ঢুকছে যেটা বাংলাদেশের মানুষ চিন্তাই করতে পারে না, যেটা বাংলাদেশের আত্মা নয়। আজকে দুর্ভাগ্যক্রমে এই বর্তমান সময়টা অত্যন্ত একটা জটিল সংকট অবস্থায় উপস্থিত হয়েছে। অনেক আশাআকাঙ্ক্ষা, ভরসা নিয়ে আমরা বিএনপি ১৬ বছর লড়াই করেছি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। আজকে ছাত্রজনতার একটা অভ্যুত্থান হয়েছে। সেই অবস্থাটাকে, মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষাটাকে কিন্তু আমরা সঠিকভাবে ধরতে পারছি না।

তিনি বলেন, আজকে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, আমাদের সকলের সমর্থন তারা এসেছে। তারা চেষ্টা করেছে যে রাজনৈতিক কাঠামোটাকে একটা জায়গায় নিয়ে আসার। কিন্তু সেটা কতদূর এই জনগণের আশাআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তার সামঞ্জস্য থাকছে সেটা কিন্তু এখনো বলার সময় আসেনি। আমরা বারবার বলেছি যে, নির্বাচনই হচ্ছে একমাত্র পথ যা দিয়ে একটা ট্রানজিশন টু ডেমোক্রেসি, গণতন্ত্রে আমরা যেতে পারব এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সেখানে আমরা প্রতিফলিত করবার চেষ্টা করতে পারব।

মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকটা বিভ্রান্তি, অনেকটা হতাশা এবং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েও কিন্তু এই নির্বাচনের এখন একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে কিছু গোষ্ঠী, কিছু মহল আজকে পরিকল্পিতভাবে এই বাংলাদেশে একটা অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে চায় এবং তারা বিভিন্ন রকম দাবি তুলে নির্বাচনকে ব্যাহত করতে চায়, বিলম্বিত করতে চায়। এই দেশের মানুষের এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন যেটা সেটা হচ্ছে একটা নির্বাচিত সরকার, যার পেছনে জনগণ থাকবে। আমি সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান জানাব, আর কালবিলম্ব না করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়ে এই দেশের মানুষের যে মত ও বিশ্বাস এখানে এই নির্বাচন অবশ্যই অনুষ্ঠিত করে মানুষের প্রতিনিধি নির্বাচিত করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। নির্বাচিত সরকার না থাকলে এটা আরো খারাপ হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ হচ্ছে। নির্বাচিত সরকার না থাকলে এটা খুবই খারাপ হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনগরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পরবর্তী নিবন্ধমোটরসাইকেল বাঁচাতে গিয়ে বাস খাদে, নিহত ৫