হাসিনার বিরুদ্ধে যুবলীগ কর্মীর মামলা

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর, ২০২৪ at ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ

দুইদিন আগে চট্টগ্রাম আদালতে শেখ হাসিনাসহ ১৮৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী কপিল উদ্দিন একজন যুবলীগ কর্মী, এমনটা তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম নগর ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ছবিও রয়েছে। তার সাথে মিছিল মিটিং’এ ও যেতেন কপিল উদ্দিন। এছাড়া গত ১০ নভেম্বর কোতোয়ালী থানায় মো. রাইয়ান নামের এক যুবকের দায়ের করা মামলার আসামিও এই কপিল উদ্দিন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে কপিল উদ্দিনসহ মোট ২৭৮ জনের বিরুদ্ধে মো. রাইয়ান নামের ওই যুবক মামলাটি দায়ের করেছিলেন। এদিকে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী যুবলীগ কর্মী কপিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকসহ তিনটি মামলা রয়েছে। একাধিকবার তিনি কারাগারেও গেছেন। জানা গেছে, কপিল উদ্দিন নগরীর নন্দনকানন এলাকার একটি থ্যাই অ্যালুমিনিয়ামের দোকানে কাজ করেন।

আদালতসূত্র জানায়, নগরীর নিউমার্কেটে গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুরুতর আহতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৮৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন কপিল উদ্দিন। এতে সাবেক পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার ও সাবেক ডিবি প্রধান হারুনুর রশিদসহ পুলিশের ২৬ জনের নাম রয়েছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী নূরে খোদা এ বিষয়ে দৈনিক আজাদীকে বলেছিলেন, আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাতকানিয়া লোহাগাড়ার সাবেক এমপি মোতালেব চৌধুরী, বাঁশখালীর সাবেক এমপি মুজিবুল হক, এডিশনাল ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক সিএমপি কমিশনার সাইফুল ইসলাম, কোতোয়ালী থানার সাবেক ওসি নেজাম উদ্দিন, একই থানার সাবেক আরেক ওসি মোহাম্মদ মহসিন, একই থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) সাজেদ কামাল, পাঁচলাইশের সাবেক ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা, কোতোয়ালী থানার সাবেক ওসি ওবায়দুল হক, চান্দগাঁও থানার সাবেক ওসি জাহিদুল কবির ও জাতীয় পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরের নেতা সোলায়মান আলম শেঠ।

আরো আছেন, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, সাবেক কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, মোবারক আলী ও ওয়াসিম উদ্দিন। মামলার আরজিতে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট দুপুরে নগরীর নিউমার্কেট মোড়ের গোল চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আওয়ামী সরকার পতনের লক্ষে আন্দোলন চলছিল। সেখানে অন্যদের মতো বাদী কপিল উদ্দিনও সচেতন নাগরিক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল, গ্রেনেড ও গোলাবারুদ নিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। বাদীসহ অন্যদের উপর প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণ, সাউন্ড গ্রেনেড ও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে বাদী গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রুজনতা তাকে যখন সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন আসামিরা ফের হামলা করে। লাঠি সোটা ও হকস্টিক দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বাদীকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আরজিতে আরো বলা হয়, সেখানেও ছাত্রলীগের ক্যাডারা রেডক্রিসেন্টের বিভিন্ন পোশাক পড়া অবস্থায় হামলা করা হয়। চিকিৎসা প্রদান না করতে নার্সদের হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বাদীকে সেখান থেকে বের করে অপর একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৮ দিনেই আসনের ৯৭ শতাংশ আবেদন
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে সালমান এফ রহমান-তার ছেলে ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা