হাসপাতাল-ফার্মাসিউটিক্যাল সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করবে বিএনপি : খসরু

| রবিবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৫ at ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেসরকারি খাতের হাসপাতাল ও ফার্মাসিউটিক্যালকে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আমি মনে করি, বেসরকারি খাতে হাসপাতাল বলেন, ফার্মাসিউটিক্যাল বলেন, যারা যারা আছে, দয়া করে তাদের সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে দিন। বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, সরকারের নিয়ন্ত্রণ। সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমানোটা অনেকের ভালো লাগবে না আমি জানি। অনেকে মনে করবেন, তাদের কর্তৃত্ব চলে যাচ্ছে; নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে। গতকাল শনিবার ঢাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশ হেলথ কনক্লেভ২০২৫’ এ তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ করব। এটার কোনো বিকল্প নাই। আমাদের ৫ শতাংশে যেতে হবে। খবর বিডিনিউজের।

তবে স্বাস্থ্য খাত ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত’ রাখার বিরোধিতা করে মত দেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান। সাধারণ জনগণকে তার প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সেবা পৌঁছে দিতেই এখানে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয় বলে তার মত। বিশ্বের সবখানেই এমন নিয়ন্ত্রণ আছে বলে দাবি করেন করেন তিনি। সায়েদুর রহমান বলেন, আপনারা বলছেন যে রাষ্ট্র নির্ধারণমূলক বা নিয়ন্ত্রণমূলক হবে না। ওনারা (বিএনপি) যদি একেবারেই ‘ডিরেগুলেট’ (ক্ষমতা খর্ব) করেন, আমি মনে করি, পৃথিবীর সবচাইতে বড় উদাহরণ তো আমেরিকা। ধরলাম ‘ডিরেগুলেশনের’ চ্যাম্পিয়নও। তারা কি ওষুধকে ‘ডিরেগুলেট’ করে দিচ্ছে নাকি? তাহলে আমরা যখন সবচাইতে বড় অনিয়ন্ত্রিত বাজার, অর্থনীতির চ্যাম্পিয়ন যারা, সেই সমস্ত দেশেও যদি তাকাই, সেখানেও স্বাস্থ্যকে তারা আসলে একটা মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করে। অতএব ব্যাংকিং হয়ত ‘আনরেগুলেটেড’ থাকবে, গার্মেন্ট ‘আনরেগুলেটেড’ থাকতে পারে। কিন্তু স্বাস্থ্য ‘আনরেগুলেটেড’ পৃথিবীতে আসলে খুব কম দেশে আছে। আমার জানামতে কোনো দেশেই নাই।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি প্রসঙ্গে কিছু চিকিৎসকের পেছনে ফার্মাসিকিউটিক্যালস কোম্পানির খরচের কথা তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি এ বক্তব্য দিতেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন চিকিৎসক প্রতিবাদ করে তেড়ে আসেন। এ নিয়ে হট্টগোল শুরু হলে সায়েদুর রহমান বলেন, এর উত্তর আমি দিব। তারপরও ওই চিকিৎসক না থামলে পরে সায়েদুর রহমান মঞ্চ থেকে নেমে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে যান। পরে তাকে হোটেলের বলরুমের ফটক থেকে অনুরোধ করে ফিরিয়ে আনা হয়।

পরে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ প্রসঙ্গ তুলে ধরে সায়েদুর রহমান বলেন, আমরা বিভিন্ন কোম্পানির অডিট রিপোর্ট দেখেছি, আজ আমি বলতে চাই নাই। যেজন্য আমি চলে গেছিলাম। অডিট রিপোর্টে দেখা যায়, প্রমোশনাল এঙপেন্ডিচার যাদের আছে, কারো কারো ১০০ কোটি টাকার বেশি; অডিট রিপোর্টে আছে। অতএব প্রমোশনাল এঙপেন্ডিচার মানে তখন বলা হয়, যেটা হচ্ছে ওই রিপ্রেজেন্টেটিভের বেতন। রিপ্রেজেন্টিভ কত হাজার? তাদের বেতন কত? আমরা কিন্তু এগুলো অ্যানালাইসিস করেছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, পাঁচ তারকা হোটেলে আমরা আসি, এই একটা সন্ধ্যায় এক কোটি টাকা খরচ হয়। হু ইজ পেয়িং? একদম ফ্ল্যাট প্রশ্ন।

সব চিকিৎসক এ অর্থ না নিলেও একটা বড় অংশ যে নেয় তাও তিনি তুলে ধরেন। বলেন, আমরা নিশ্চিত হলাম যে আমি টাকা নিই না। কিন্তু আমরা এখানে যখন এক কোটি টাকায় এক সন্ধ্যা হয়। গালা নাইট করি তিন কোটি টাকায়, এই টাকা কে দেয়? কোম্পানি দিতে পারে না। কোম্পানি নিশ্চয়ই এটা তার ওষুধের উপরে বসায়। তাহলে এই গালা নাইটের গান শোনার সময় অথবা বের হয়ে ফাইভ স্টারে ভাত খাওয়ার সময় কি আমাদের মনে পড়ে ওই মানুষের কথা? যারা আমরা স্পেনে যাই একসঙ্গে ৪০ জন। পাঠান নাই স্পেনে? আমাদের কাছে লিস্ট আছে কোন ৪০৫০ জন স্পেনে গেছেন; ব্রাজিলে গেছেন। কতদিন গেছেন। সেই টাকা কে পরিশোধ করেছে। অতএব প্লিজ এভাবে আরগু করবেন না। আমরা জানি। স্পষ্ট জেনেই কথাটা বলতেছি যে, আসলে কত টাকা আনুমানিক খরচ হয়।

তিনি বলেন, আপনিআমি নিই না। আমাদের ১ লাখ ৪০ হাজারের (চিকিৎসক) মধ্যে হয়ত ১ লাখই নেয় না, হয়ত ১ লাখ ২০ হাজারই নেয় না, কিন্তু তার মানে তো এই না যে টাকাটা নেওয়া হয় নাই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআইনি দিক যাচাই করে জাপা নিষিদ্ধের পদক্ষেপ : অ্যাটর্নি জেনারেল
পরবর্তী নিবন্ধআগামী নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে : মির্জা ফখরুল