মাহে রমজানের প্রথম দশক পার হতে যাচ্ছে। আজ ৮ রমজান। রহমতের দশক পূর্ণ হতে আর একদিন বাকি। আত্মসংযম এবং আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে মাহে রমজান প্রতি বছর আমাদের দুয়ারে হাজির হয়। রোজার মাসে বেশি বেশি উচ্চারিত হয় আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির কথা। অথচ দুঃখজনক যে, আত্মশুদ্ধির তোয়াক্কা না করে এ মাসেই বেশি চলে অসংযম, ভোগাচার ও অমিতাচার। রোজার মাস যেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে চুটিয়ে ব্যবসা করার মোক্ষম সুযোগ এনে দেয়। ভোগ্যপণ্যের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কিছু ব্যবসায়ী ব্যবসার নামে লুণ্ঠনবৃত্তিতে জড়িয়ে ভোক্তাদেরকে নিদারুণ দুর্ভোগে নিক্ষিপ্ত করে। এখন গণতান্ত্রিক আবহ ফিরে এলেও ব্যবস্থা খুব একটা বদলায়নি। এবারও ভোগ্যপণ্যের লাগামহীন দামে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল ব্যবসা তথা সৎ উপায়ে ব্যবসা করা প্রিয় নবীজীর (দ.) সুন্নত। প্রিয় নবী (দ.) বলেছেন, হালাল উপায়ে ব্যবসা আমার সুন্নাত। সৎ ন্যায়নিষ্ঠ ব্যবসায়ীগণ জান্নাতে আমার সঙ্গে থাকবেন। প্রিয় নবী (দ.) আরো বলেন, যে ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মত নয়।
সূরা বনী ইসরাইলের ৩৫নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, মেপে দেওয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক পাল্লায় ওজন করবে। এটি উত্তম, এর পরিণাম শুভ। ব্যবসায় অসদুপায় অবলম্বন অত্যন্ত নিন্দনীয়। খারাপ পণ্যকে লুকিয়ে উপরে ভালো দেখিয়ে বিক্রি করাও এক ধরনের প্রতারণা। ওজনে কম দেয়া ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য অপরাধ। সূরা আল মুতাফিফিনের ১–৩ আয়াতে মহান আল্লাহ পাকের বাণী– ধ্বংস যারা পরিমাপে কম দেয় তাদের জন্য। যারা লোকদের কাছ থেকে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে। আর যখন তাদেরকে মেপে দেয় অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। বেশি মূল্য পাওয়ার আশায় অর্থাৎ বেশি মুনাফার জন্য ভোগ্যপণ্য মজুদ করাও ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য অপরাধ। ৪০ দিনের বেশি পণ্য মজুদকারীদের পণ্যের গুদাম জ্বালিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং প্রিয়নবী (দ.)। তাই, ইসলাম নির্দেশিত হালাল ও সৎ উপায়ে ব্যবসা করতে হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দেয়া, অতি মুনাফা করা, ভোক্তাদেরকে ঠকানো এবং মজুদদারিতা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও আপত্তিকর। এই পথ থেকে সবাইকে সরে আসতে হবে। হালাল পন্থায় ব্যবসার মাধ্যমে আল্লাহপাকের নৈকট্য ও প্রিয় নবীর (দ.) সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। ভোগ্য পণ্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ভোক্তাদেরকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। এক সাথে ৫/৭/১০ কেজি পণ্য কিনলে বাজারে তো উত্তাপ ছড়াবেই। বেশি পণ্য কিনলে বাজারে এর দাম বেড়ে যায়। তাই, ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ভোক্তাদেরকেও সংযমের পরিচয় দিতে হবে।












