হার দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক | শুক্রবার , ১১ জুলাই, ২০২৫ at ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ

টিটোয়েন্টি ক্রিকেটটা কীভাবে খেলতে হয় সেটিই যেন বাংলাদেশকে শেখাল শ্রীলঙ্কা। টিটোয়েন্টি ক্রিকেট কীভাবে খেলতে হয় তা যেন এখনো অজানা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কাছে। নাহলে ৬ ওভারের পাওয়ার প্লে কিংবা শেষের ডেথ ওভারে এ কেমন ব্যাটিং! গতকাল বৃহস্পতিবার টিটোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ধরন মোটেও টিটোয়েন্টির ছিল না। অপরদিকে শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা দেখিয়ে দিল টিটোয়েন্টি খেলার ধরন। দুই লঙ্কান ওপেনার নিশাংকা এবং মেন্ডিস তুলোধুনো করলেন বাংলাদেশের বোলারদের। মনে হচ্ছিল টিটোয়েন্টি নয়, তারা যেন টিটেন খেলছিল। ফলে একেবারে সহজ এক জয় দিয়ে টিটোয়েন্টি সিরিজ শুরু করল স্বাগতিকরা। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে এক ওভার বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের ব্যাটাররা যেন ৫০ ওভারের ঢংয়ে ব্যাটিং করেছেন ২০ ওভারের ম্যাচে। লঙ্কানদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বেশিদূর এগোতে পারেনি বাংলাদেশের ইনিংস। টিটোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন যেখানে হরহামেশাই দুইশ কিংবা আড়াইশ রান হচ্ছে, আবার সে রান টপকেও যাচ্ছে সেখানে ১৫৪ রান নিয়ে ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখাটা যে বোকামি সেটা পরিষ্কার করে দেখিয়ে দিলেন লঙ্কান ব্যাটাররা। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মতো ব্যর্থতার পথে হেঁটেছে বোলাররাও। আর তাতেই লজ্জার হার দিয়ে টিটোয়েন্টি সিরিজ শুরু করতে হলো বাংলাদেশকে।

পাল্লেকেলেতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা মন্দ ছিল না। দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন এবং তানজিদ হাসান তামিম ৪৬ রান যোগ করেন। ১৭ বলে ১৬ রান করে তামিম ফিরলে ভাঙে এ জুটি। তারপরও ৫.১ ওভারে ৫০ রান করে বাংলাদেশ। ওয়ান ডাউনে নামা অধিনায়ক লিটন দাশ পারলেন না ব্যর্থতার বলয় থেকে বের হতে। ১১ বলে ৬ করে ফিরেছেন তিনি। লঙ্কান স্পিনার জেফ্রে ভেন্ডারসের বলে এলবিডব্লিউ হয়েছেন লিটন। লিটন ফেরার পরের ওভারে ইমনও সাজঘরের পথ ধরেন। থিকসানার ঘূর্ণি বুঝতে না পেরে বল আকাশে তুলে দেন তিনি। ২২ বলে ইমনের ৩৮ রানের ইনিংসে ছিল ৫টি চার আর একটি ছক্কা। ১০ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৯ রান তোলে বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় শুরু থেকেই সুবিধা করতে পারছিলেন না। ১৩ বলে ১০ করে অবশেষে শানাকাকে উইকেট দেন তিনি। কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষকের হাতে। ১৪.৪ ওভারে ১০০ পার করে টাইগাররা। যা টিটোয়েন্টি ক্রিকেটের সাথে বড়ই বেমানান। নাঈম শেখের সাথে ৪৬ রান যোগ করেন মিরাজ। ২৩ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ২৯ রান করে ফিরেন মিরাজ। শেষদিকে শামীম পাটোয়ারীর ৫ বলে ২ ছক্কায় অপরাজিত ১৪ রানের ইনিংসে ১৫৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। নাইম শেখ ২৯ বলে একটি করে চার আর ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৩২ রানে।

জবাব দিতে নামা দুই লঙ্কান ওপেনার নিশাংকা এবং কুশল মেন্ডিজ ঝড় বইয়ে দিতে থাকেন বাংলাদেশের বোলারদের ওপর। মাত্র ২৮ বলে ৭৮ রানের জুটি গড়েন দুজন। পঞ্চম ওভারে মিরাজ এসে ভাঙেন এ জুটি। ১৬ বলে ৫টি চার এবং ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৪২ রান করা নিশাংকা ক্যাচ দেন শামীম পাটোয়ারীর হাতে। নিশাংকা মিস করলেও কুশল মেন্ডস ঠিকই তার হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছে। ৩১ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন এই লঙ্কান ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেটে কুশল পেরেরা এবং কুশল মেন্ডিস মিলে যোগ করেন ৪২ রান। এ জুটি ভাঙেন রিশাদ। তার বলে পুল করতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দেন পেরেরা। সহজেই ক্যাচটি লুফে নেন লিটন। কুশল পেরেরা ২৫ বলে ২৪ রান করেন। দলীয় ১৪৮ রানের মাথায় আউট হন কুশল মেন্ডিস। ৫১ বলে ৭৩ রান করা এই ব্যাটার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে শামীম হোসেনের হাতে ধরা পড়েন। ৫টি চার এবং ৩টি ছক্কা ছিল তার ইনিংসে। বাকি কাজ সারেন ফার্নান্ডো অপরাজিত ১১ এবং আসালাংকা অপরাজিত ৮ রান করে। শ্রীলঙ্কা ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯ ওভারে ১৫৯ রান করে নেয়। ম্যাচ সেরা হন শ্রীলঙ্কার কুশল মেন্ডিস। দুই দেশের দ্বিতীয় টিটোয়েন্টি ম্যাচটি হবে আগামী রোববার সন্ধ্যা ৭ টা ৩০ মিনিটে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসচল হয়নি রাঙামাটির লংগদু-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল
পরবর্তী নিবন্ধএসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ১৭ জুলাই পর্যন্ত