বর্তমানে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে হাম নামক আতঙ্ক। হাম মূলত ‘মিজেলস’ নামের এক অতিসংক্রামক ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগ। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি–কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়, তবে বড়দের ক্ষেত্রেও এটি হতে পারে। উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র্যাশ নিয়ে হামের আবির্ভাব ঘটে। হামের জটিলতা হিসেবে পরবর্তী সময়ে প্রায়ই নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া হতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত শিশুর শরীরে ভিটামিন এ মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে শিশুর রাতকানা থেকে শুরু করে অন্ধত্ব পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। এই হাম প্রতিরোধের একমাত্র এবং সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। বাংলাদেশ সরকারের সমপ্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় শিশুদের বিনামূল্যে এমআর (হাম ও রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ শিশুর ৯ মাস পূর্ণ হলে এবং দ্বিতীয় ডোজ শিশুর ১৫ মাস পূর্ণ হলে। শিশুকে হাম থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে নির্ধারিত সময়ে দুইটি ডোজই নিশ্চিত করতে হবে। তবে হামে আক্রান্ত হলে রোগীকে আলাদা কক্ষে রেখে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে। চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। রোগীকে পর্যাপ্ত পানি, তরল খাবার ও পুষ্টিকর সুষম খাবার নিশ্চিত করতে হবে।
কাজী মালিহা আকতার
শিক্ষার্থী,
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ।







