হাম নিয়ে যা জানা জরুরি

| বুধবার , ১ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেক শিশু জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং গায়ে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। কিছু শিশুর অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন হাম কেন বাড়ছে? কীভাবে ছড়ায়? কী করলে শিশুকে রক্ষা করা যাবে? টিকা নেওয়া শিশুরাও কি ঝুঁকিতে আছে?

ঢাকা মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জামিল আহমেদ মানিক বলেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। এটি বাতাসের মাধ্যমে সহজে ছড়ায়। একজন আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচিকাশিতে ভাইরাস বাতাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। সেই বাতাসে শ্বাস নিলে বা জীবাণুযুক্ত পৃষ্ঠ স্পর্শ করে চোখেমুখে হাত দিলে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন। খবর বিডিনিউজের।

তিনি বলেন, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সচেতনতা, টিকাদান এবং সঠিক যত্নের মাধ্যমে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অভিভাবকরা সতর্ক থাকুন, শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হোন। সময়মতো টিকা নিলে এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে অনেক বড় বিপদ এড়ানো যাবে।

হামের লক্ষণ : হামের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেয় ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৪ দিন পর। প্রথমে তীব্র জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও চোখমুখ ফুলে ওঠে। তারপর চারপাঁচ দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দেয়। শিশু খেতে চায় না, দুর্বল হয়ে পড়ে।

যেসব সমস্যা হতে পারে : হাম শুধু জ্বর ও র‌্যাশের রোগ নয়, এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কান পাকা, মুখে ঘা, অপুষ্টি, চোখের সমস্যা, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে। চরম ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটতে পারে।

অভিভাবকদের করণীয় : . শিশুর জ্বর ও শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। ২. শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও অন্য শিশুদের থেকে। ৩. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ‘ভিটামিন এ’ সাপ্লিমেন্ট দিতে হবে। ৪. শিশুকে পর্যাপ্ত পানি, খাওয়ার স্যালাইন, ফলের রস ও পুষ্টিকর তরল খাবার দিতে হবে। ৫. রোগীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। ৬. শিশুকে টিকা দেওয়ার ব্যাপারে কোনো গড়িমসি করা যাবে না। টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।

ডা. মানিক বলেন, হামের টিকা (এমআর টিকা) ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুটি ডোজ দেওয়া হয়। দুটি ডোজ নিলে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। যেসব শিশু এখনো টিকা পায়নি, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা দরকার। অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয় যে, কোনো গুজব বা ভুল ধারণায় বিভ্রান্ত হয়ে শিশুকে টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকা যাবে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগণভোটের প্রতি সম্মান দেখাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জামায়াত আমিরের
পরবর্তী নিবন্ধসংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন আদেশকে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘প্রতারণার দলিল’ বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী