হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে ২৬ শিশু হাসপাতালে

হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু । চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৩ জনের ২১ জনই টিকা নেয়নি, এক ডোজ নিয়েছে ৯ শিশু

জাহেদুল কবির | বুধবার , ১ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ

হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামের সরকারিবেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে গতকাল একদিনে নতুন করে আরো ২৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এতে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে। এর মধ্যে কিছু শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে গতকাল শুধুমাত্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৩৩ জন শিশু। এদের মধ্যে বেশিরভাগ শিশু হামের টিকা দেয়নি। এছাড়া ইতোমধ্যে ৭ জনের হাম এবং একজনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। অপরদিকে গত সোমবার রাতে কক্সবাজার থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে চমেক হাসপাতালে আসা আয়েশা সিদ্দিকা নামে সাড়ে ৫ মাস বয়সী শিশু আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। কক্সবাজার থেকে আসার আগেই পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে হামে মৃত্যু হয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগর এলাকা থেকে গতকাল ৬ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলসরুবেলা ল্যাবরেটরিতে (এনপিএমএল) পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে নগর থেকে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে ১৫ উপজেলা থেকে গতকাল ১০ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত নমুনা পাঠানো হয়েছে ৫০ জনের। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত মোট ৯১ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

গতকাল চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৩ জন শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেশিরভাগ শিশু হামের টিকা দেয়নি। এছাড়া কয়েকজন এক ডোজ টিকা দিয়ে আরেক ডোজ দেয়নি। এছাড়া পূর্ণ দুই ডোজ টিকা দিয়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে এমন শিশুও রয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে শূন্য থেকে ছয় মাস বয়সী রয়েছে ৭ জন, সাত থেকে নয় মাস বয়সী ৭ জন, ১০ মাস থেকে এক বছরের ৪ জন, দুই থেকে পাঁচ বছরের ১৩ জন এবং ছয় থেকে ১০ বছরের ২ জন। পূর্ণ ডোজ টিকা পাওয়া তিনজনের বয়স যথাক্রমে দেড় বছর, দুই বছর ও ৮ বছর। একটি ডোজ নিয়েছে ৯ জন। এর মধ্যে সাতজনের বয়স ১৫ মাস থেকে ৮ বছর এবং বাকি দুজনের বয়স ১২ মাস। এছাড়া ২১ জন শিশু কোনো টিকা নেয়নি। যাদের মধ্যে ১৩ জনের বয়স ২ থেকে ৯ মাস। বাকিদের বয়স ১০ মাস থেকে ৮ বছর।

অন্যদিকে গতকাল চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ মাস বয়সী এক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জন চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের বয়স ৬ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে যারা হাসপাতালে আসছে আমরা তাদের নমুনা ঢাকায় পাঠাচ্ছি। এমন ৯১ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। গতকাল ১৬ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে কঙবাজার থেকে চমেক হাসপাতালে আসা এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার নমুনার রিপোর্ট এখনো আসেনি।

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, আমাদের হাসপাতালে আসা বেশিরভাগ শিশু টিকা নেয়নি। আবার কিছু শিশুর টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি, কিছু শিশু এক ডোজ টিকা নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। আবার দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে এমন শিশুও আছে। আসলে কোনো টিকার কার্যক্ষমতা ১০০ শতাংশ না। টিকা নেওয়ার পরেও হয়তো টিকা কাজ করেনি। শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি। এটি স্বাভাবিক ঘটনা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন আদেশকে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘প্রতারণার দলিল’ বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬