হামলা-ভাঙচুরের মামলায় আদালতে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

চিন্ময়ের জামিন ঘিরে সংঘাত এক আসামির সাময়িক অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ৩০ মার্চ, ২০২৬ at ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাশের জামিন নামঞ্জুরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত পাড়ায় হামলাভাঙচুরের মামলায় আদালতে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এতে এক আসামির সাময়িক অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। তার নাম আয়ান শর্মা। তিনি দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের উপদেষ্টা সম্পাদক ও প্রকাশক। গত শনিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) সহকারী কমিশনার মো. মোস্তফা কামাল এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়ান শর্মার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড, অস্ত্র ব্যবহার, ভাঙচুর বা আক্রমণের পৃথক বর্ণনা পাওয়া যায়নি। এজাহারে কেবল সমষ্টিগতভাবে সকল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ফলে প্রাথমিকভাবে আদালত পাড়ায় হামলাভাঙচুরের ঘটনায় তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রতীয়মান হয় না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় আয়ান শর্মার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের কল রেকর্ড ও লোকেশন ডাটা যাচাই করা হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে। মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দিতেও আয়ান শর্মার ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বলা হয়, ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ক ধারায় তদন্ত কর্মকর্তা এ অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। আগামীকাল (সোমবার) এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

নগরীর নিউ মার্কেট মোড়ে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চিন্ময় দাশের বিরুদ্ধে নগরীর কোতোয়ালী থানায় একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়। এ মামলায় একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে চিন্ময়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষের আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলাম জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশ চিন্ময়কে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া তার অনুসারীরা ভ্যানের গতিরোধ করেন এবং প্রিজন ভ্যানের সামনেপিছনে শুয়ে পড়েন। আড়াই ঘণ্টা পর লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে চিন্ময়কে বহনকারী প্রিজন ভ্যানকে কারাগারে নেওয়া হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা আদালত পাড়ায় ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর করে। শুরু হয় সংঘাত। এর মধ্যে আদালতের প্রবেশ গেটের অদূরে মেথরপট্টি এলাকায় খুন হন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ। এসব ঘটনায় মোট সাতটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালী থানায় ৬টি ও আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে ৭৯ জনের নামে তিনটি, আলিফের বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নামে একটি (হত্যা মামলা) ও তার ভাই খানে আলম বাদী হয়ে আদালত পাড়ায় হামলাভাঙচুরের অভিযোগে ১১৬ জনের নামে একটি ও মোহাম্মদ উল্লাহ নামে এক ব্যবসায়ী ২৯ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া মো. এনামুল হক নামে একজন বাদী হয়ে ১৬৪ জনের নামে আদালতে আরেকটি মামলা করেন। আদালত সেটি কোতোয়ালী থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। আলিফের ভাই খানে আলমের দায়ের করা মামলার ১১৬ আসামির একজন হচ্ছেন আয়ান শর্মা। তিনি মামলাটির ৬৮ নম্বর আসামি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধচবির দুই সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগ