হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমসহ দুজন ভারতে গ্রেপ্তার

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা তথ্যে গ্রেপ্তার : আইএসপিআর

আজাদী ডেস্ক | সোমবার , ৯ মার্চ, ২০২৬ at ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। এসটিএফের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। খবর বিডিনিউজের।

এসটিএফ বলছে, দুই বাংলাদেশি তাদের দেশে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ছিল। তারা সুযোগ পেলে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা তথ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে আটক হওয়ার কথা বলেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরআইএসপিআর। গতকাল রাতে আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতে গ্রেপ্তার দুজনকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের কৌশলী গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাদি হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামিকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭ বছরের রাহুল ওরফে ফয়সাল পটুয়াখালীর বাসিন্দা। ৩৪ বছরের আলমগীর ঢাকার বাসিন্দা।

আইএসপিআর বলেছে, বিভিন্ন সোর্স থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক ভারত সফরের পর থেকে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বলছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদিকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে যায়। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার পর বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে শেষ পর্যন্ত বনগাঁয় যায়। এ বিষয়ে মামলা করা হয়েছে জানিয়ে এসটিএফ বলছে, গতকাল আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ওরা আমাদেরকে এখনো অফিসিয়ালি কনফার্ম করেনি। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বলেন, আমরা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টা জেনেছি। এখন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অফিসিয়ালি বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি।

জুলাই আন্দোলন এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে। তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে শেষের তিনজন পলাতক রয়েছেন।

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য ছিল। মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ঠিক করেন।‎ সেদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাবেক সাব-রেজিস্ট্রারসহ দুজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
পরবর্তী নিবন্ধবর্ষা সামনে রেখে একগুচ্ছ কাজ করবে চসিক-সিডিএ