হাত দিয়ে টানলেই খুলে যায় সেই লিফট

কক্সবাজারে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন

কক্সবাজার প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুটি বিপরীত বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। একটি হচ্ছে লিফট দুর্ঘটনা। অপরটি হচ্ছে কারো দ্বারা মৃত্যু। তবে দুটি দিকই নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আপাতত এটি নিছক লিফট দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তাহলে এমন দুর্ঘটনাপ্রবণ লিফট কেন এই জনবহুল হাসপাতালেএমন প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। এই ঘটনার তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া লাশটি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেইলপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের স্ত্রী কোহিনুর আক্তারের (৩১)। তিনি ৩ মার্চ পাঁচ বছরের অসুস্থ মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসেন। মরিয়মকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডের ২ নম্বর ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরদিন ৪ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মেয়ের জন্য ওষুধ কিনতে নিচে যাচ্ছেন বলে ওয়ার্ড থেকে বের হন কোহিনুর। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি। তার স্বামী কাতারপ্রবাসী। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে কোহিনুরের শ্বশুর আলী আকবর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে গত শনিবার হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে কোহিনুরের লাশ উদ্ধার করা হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মং টিং নিও বলেন, লিফটের নিচ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। সেখানে দেখা যায়, কালো বোরকা পরা এক নারী চতুর্থ তলায় হাত দিয়ে লিফটের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। তখন লিফটটি পঞ্চম তলায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, লিফট না থাকা অবস্থায় তিনি ভেতরে ঢুকতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে কঙবাজার মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আলী হোসেনকে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পাঁচতলা ভবনের মাঝামাঝি স্থানে পাশাপাশি দুটি লিফট রয়েছে। একটি লিফট দিয়ে রোগী ও দর্শনার্থীরা ওঠানামা করেন। অন্যটি চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাকর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত। এক যুগ আগে গণপূর্ত বিভাগ লিফট দুটি স্থাপন করে। পরে লিফট পরিচালনার জন্য চারজন লিফটম্যানও নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে সর্বশেষ লিফটগুলো সংস্কার করা হয়।

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, মাসখানেক ধরে একটি লিফটে ত্রুটি দেখা দেয়। হাত দিয়ে টান দিলেই এর দরজা খুলে যায়। লিফট সংস্কারের জন্য গণপূর্ত বিভাগে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই এ দুর্ঘটনা ঘটে গেল।

কঙবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দীন বলেন, লিফটে ত্রুটি ছিল। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে এলে ঘটনাটি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির সদস্য ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ইয়াসির আরাফাত বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কঙবাজার জেলা প্রশাসক মো. . মান্নান বলেন, তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদেশি কাপড় বিদেশি বলে বিক্রি ও দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ কসমেটিকস
পরবর্তী নিবন্ধসেহেরির সময় নিজ ঘরে গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ