নোয়াখালীর হাতিয়ায় ‘ভোটের বিরোধের জেরে’ এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেছেন, ওই ঘটনায় কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ তারা পাননি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ আসায় তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করেছেন। অভিযোগকারী নারীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তার অভিযোগ, ‘শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায়’ ধর্ষণ করা হয়েছে তাকে। তিনি বলছেন, ভোটের পর শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি তাদের ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়। একজন তাকে ‘ধর্ষণ’ করে এবং বাকি দুজন পাহারা দেয়। খবর বিডিনিউজের। অন্যদিকে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই বিএনপিকর্মীর দাবি, হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নে যে সময় ধর্ষণের কথা বলা হচ্ছে, তখন তিনি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, কারণ ‘শাপলা কলির পক্ষে কাজ করতে রাজি না হওয়ায়’ তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থলে দুই দফা মারামারির তথ্য পাওয়া গেলেও ধর্ষণের বিষয়ে স্থানীয়দের কেউ কিছু বলতে পারেননি। হাসপাতালে ওই নারীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্রেও দুই রকম তথ্য রয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মারামারির ঘটনায় চিকিৎসা নিতে এক নারীসহ কয়েকজন শনিবার দুপুরে হাসপাতালে আসেন। তিন ঘণ্টা পর বিকাল ৫টায় ওই নারী পুনরায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা বলেন। তবে এখন পর্যন্ত মামলা না হওয়ায় ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষা করাতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মারামারি ও ধর্ষণ, দুটিই ‘পুলিশ কেইস’ হওয়ায় ওই নারীকে হাসপাতালের লেবার কমপ্লেঙে রাখার কথা বলেন ডা. ফরিদ। শনিবার সন্ধ্যায় ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে যান নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে এনসিপি থেকে নির্বাচিত আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং জেলা জামায়াতের আমীর ইসহাক খন্দকার। হান্নান মাসউদের দাবি, ‘শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায়’ ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে ওই নারীকে। হাসপাতাল ও পুলিশ প্রশাসনের দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগ প্রচার হওয়ার পর ফেসবুকে লাইভে আসেন সেই বিএনপিকর্মী রহমান হোসেন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। রহমান দাবি করেছেন, যে সময় ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সে সময় তিনি নিজেই নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে দেখা যায়, ওই নারীকে ‘ধর্ষণের’ সময় লেখা হয়েছে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায়। আর ওইদিন ‘ফিজিক্যাল অ্যাসল্টের’ ঘটনায় চিকিৎসা দেওয়ার একটি ব্যবস্থাপত্র রহমান হোসেন দেখিয়েছেন।
বিএনপি সমর্থকের মার্কেটে অগ্নিসংযোগ : এদিকে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার মধ্যে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ধানের শীষের এক সমর্থকের মার্কেটে অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সাতটি দোকান, একটি মাইক্রোবাস ও দুটি অটোরিকশা পুড়ে গেছে। গতকাল রোববার ভোরে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের মুলা মার্কেটে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে হাতিয়া থানার ওসি সাইফুল আলম জানান। মার্কেটের মালিক ওই গ্রামের বাসিন্দা কালাম সর্দার বলেন, আমি এখানে ধানের শীষের নির্বাচন করেছি। কয়েকদিন ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেখে নেবে বলে হুমকি দিয়ে আসছিল। এর মধ্যে রাত ৩টার দিকে মোবাইলে লোকজন দোকানে অগ্নিসংযোগের খবর দেন। ছুটে এসে দেখি সব পুড়ে গেছে। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নোয়াখালী–৬ হাতিয়া আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার জন্য এনসিপির নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। তবে ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন এনসিপি হাতিয়া উপজেলার আহ্বায়ক শামসুদ্দিন তিবরিজ। তিনি বলেন, বিএনপি এটা নিজেরা করে আমাদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। আমি ঘটনা শোনার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে খবর নিয়েছি। বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেরা গণ্ডগোল সৃষ্টি করে আমাদের উপর দোষ চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন। হাতিয়া থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












