হাটহাজারীতে ১ মাস ১৯ দিন পূর্বে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ মোছা. ঝুমা আক্তার (১৯) নামে এক নববধূর লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার।
রবিবার (২২ মার্চ) নিহত ঝুমার পিতা মো. শাহাআলম বাদী হয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। যার নম্বর-১৮। এর আগে গত ১৯ মার্চ দুপুরে উপজেলার আমান বাজার এলাকার পশ্চিমে চসিক ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের করিম বেকারী বাড়ির আমিন ভিলারের দ্বিতীয় তলার শয়ন কক্ষের বেড রুম থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঝুমাকে পরকীয়ার বলি হতে হয়েছে। তার স্বামীর সঙ্গে এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পাষণ্ড স্বামীর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে ঝুমার মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী উক্ত এলাকার আজগর আলীর পুত্র মো. নেওয়াজ শরীফ প্রকাশ বাবু (৩১) থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়া নববধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছিল। নিহত ঝুমা আক্তার উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের কারকনের পাড়া এলাকার চাঁন মিয়া টেন্ডল বাড়ির মো. শাহআলমের কনিষ্ঠ কন্যা।
এদিকে, ওয়াশরুমের ভেন্টিলেশনের গ্রিলের সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ঝুমার স্বামীর পরিবারের সদস্যরা পুলিশ ও গণমাধ্যমকে জানিয়েছে৷ তবে নিহত ঝুমার পরিবারের দাবি, ঝুমাকে পরকীয়ার বলি হতে হয়েছে।
তার স্বামী মো. নেওয়াজ শরীফের সঙ্গে এক মেয়ের পরকীয়া রয়েছে। ঝুমার বড় ভাই তৌহিদুল আলম বলেন, আমি প্রবাসে থাকি। প্রবাস থেকে এসে আমার ছোট বোন ঝুমা আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন করি। বিয়ের এক মাস ১৯ দিন যেতে না যেতেই ছোট বোনকে লাশ হতে হলো। আমার বোন আত্মহত্যা করেনি। তাকে তার স্বামী মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
যদিও তার স্বামীর পরিবারের লোকজন বলছে, ঝুমা আত্মহত্যা করেছে; অথচ পুলিশ তার শয়ন কক্ষের বেড রুম থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রশাসনের কাছে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন নিহতের বড় ভাই।
হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান মামলা দায়েরে বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের রবিবার সন্ধ্যার দিকে বলেন, উক্ত ঘটনায় অভিযুক্ত নববধুর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত আছে।












