হাটহাজারীতে সিএনজি টেঙির যাত্রী সেজে থাকা অজ্ঞাতনামা পাঁচ ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে এক নারী যাত্রীর নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বোর্ড স্কুলের সামনে চট্টগ্রাম–ফটিকছড়ি সড়কে চলন্ত সিএনজির ভেতর এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী স্বরচিতা রায় (৫৬), পেশায় একজন শিক্ষিকা। তার স্বামী রিটন চৌধুরী গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে বিদ্যালয় ছুটি শেষে চট্টগ্রামে নিজ বাসায় ফেরার পথে সরকারবাজার এলাকা থেকে একটি সিএনজিতে ওঠেন ওই শিক্ষিকা। চলন্ত সিএনজিতে যাত্রীবেশে থাকা অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের কবলে পড়েন তিনি।
নাজিরহাটের দিক থেকে আসা সিএনজিটিতে চালকসহ পাঁচজন পুরুষ যাত্রী বসা ছিল। পেছনের একটি আসন খালি থাকায় ভুক্তভোগী সেখানে বসেন। চারিয়া বোর্ড স্কুলের সামনে পৌঁছালে একজন যাত্রী নামার কথা বলে গাড়িটি থামাতে বলেন। গাড়ি থামার পর সিএনজিতে থাকা একজন ব্যক্তি ভুক্তভোগীর কোলে বসে পড়ে এবং অপর দুই ব্যক্তি তার দুই পাশ থেকে হাত চেপে ধরে রাখে। এ সময় সিএনজি চালক গাড়িটি ঘুরিয়ে চারিয়া বোর্ড স্কুল এলাকা থেকে কাটিরহাটের দিকে নিয়ে যেতে থাকেন।
চলন্ত অবস্থায় ভুক্তভোগীর হাতব্যাগ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি বাটন ফোন, নগদ আনুমানিক ২–৩ হাজার টাকা এবং তার ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়। স্বর্ণালংকারের মধ্যে ছিল ৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি এবং ১২ আনা স্বর্ণ দিয়ে বাঁধানো দুটি শাখা–সর্বমোট প্রায় ১ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
ছিনতাই শেষে দুষ্কৃতকারীরা ভুক্তভোগীর চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে বালুরটাল নামক এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত শুনে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
ভুক্তভোগীর স্বামী রিটন চৌধুরী বলেন, এখনও পর্যন্ত দুষ্কৃতকারীদের কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। গাড়িটিও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তবে গত সোমবার রাতে থানা পুলিশ ফোনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তিনি জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর কাছ থেকে স্বর্ণ নিতে পারেনি। তবে যেহেতু ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, না হলে ভবিষ্যতে আরও কেউ আক্রান্ত হতে পারেন। তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।












