মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় ইরান, ইসরাইল এবং আমেরিকার দ্বন্দ্ব একটি বড় আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। এই সংঘাতের ফলে ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক জনমতও তৈরি হচ্ছে। এর পেছনে বড় কারণ হলো উন্নত রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থ মধ্যপ্রাচ্যের তেল, জ্বালানি, ব্যবসা–বাণিজ্য এবং বিশাল বিনিয়োগের সাথে তাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আরও লক্ষণীয় বিষয় হলো মধ্যপ্রাচ্যের বহু ধনী ইসলামিক রাষ্ট্রও আজ প্রকাশ্যে ইরানের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। কূটনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যের কারণে তারা অনেকটাই নীরব অবস্থান নিয়েছে। শুধু তাই নয়, অনেকের ধারণা ছিল যে রাশিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া সহ কিছু শক্তিধর রাষ্ট্র হয়তো এই সংকটে ইরানকে প্রকাশ্য সহযোগিতা দেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছ্তে তারা অনেকটাই নীরব পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় রয়েছে। এতে বোঝা যায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রত্যেক রাষ্ট্রই শেষ পর্যন্ত নিজেদের কৌশলগত স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেয়। এছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও নানা বিশ্লেষণ রয়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অঞ্চলে উত্তেজনা ও সংঘাতের বিষয়টি অনেক বিশ্লেষকের মতে বৃহত্তর ভূ–রাজনৈতিক কৌশলের অংশও হতে পারে যাতে সম্ভাব্য মিত্র শক্তিগুলো অন্য সমস্যায় ব্যস্ত থাকে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো অনেক রাষ্ট্রের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক চাপ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করা হয়। আমেরিকার অর্থনৈতিক শক্তি ও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রভাবের কারণে অনেক দেশ প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে দ্বিধা করে এমন বিশ্লেষণও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রায়ই শোনা যায়। ইতিহাস বারবার আমাদের মনে করিয়ে দেয় বিশ্ব শক্তির দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা ইতিমধ্যেই সিরিয়া, লিবিয়া এবং ইরাক ভেনিজুয়েলা –এর ঘটনায় সেই বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করেছি।










