হাইওয়ে সুইটসের মাটন হালিম ও বিরিয়ানির ঘ্রাণে ইফতারের ভিড়

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

পবিত্র রমজানে ইফতারের টেবিলে হালিম যেন চট্টগ্রামের মানুষের আবেগেরই অংশ। আর সেই চাহিদাকে সামনে রেখে নগরীর পরিচিত মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান হাইওয়ে এবারও সাজিয়েছে বৈচিত্র্যময় ইফতার আয়োজন। বিশেষ করে তাদের মাটন হালিম ও মাটন তেহেরি/বিরিয়ানির স্বাদ ও ঘ্রাণে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রমজানের শুরুর দিনেই চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন আউটলেটে রোজাদারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটির মাটন হালিম ও মাটন তেহেরি ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। মাংসের পরিমাণ, স্বাদের ভারসাম্য এবং মান বজায় রাখার কারণে এই দুই আইটেমের চাহিদা প্রতি বছরই বেশি থাকে।

লালখান বাজারের আউটলেটে সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল গড়ানোর আগেই ইফতারি কিনতে মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। অনেকের হাতেই দেখা গেছে হালিমের প্যাকেট। প্রতিষ্ঠানটি এবার প্রায় ৩৭ ধরনের ইফতারি রেখেছে তালিকায়। এর মধ্যে ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, পাকোড়া, সিঙ্গারা, সমুচা, চিকেন রোল, গ্রিল, রোস্ট, চিকেন উইংস ফ্রাই, শাহী জিলাপি, রেশমি জিলাপি, ফিরনি, দইবড়াসহ নানা আইটেম রয়েছে।

দামের ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে বিস্তৃত পরিসর। পেঁয়াজু ও বেগুনি প্রতি পিস ৬ টাকা, মরিচা ৩ টাকা, চিংড়ি চপ ২৫ টাকা, ডিম ও কিমা চপ ২০ টাকা, চিকেন সমুচা ১৮ টাকা, সবজি রোল ২৫ টাকা, শামি কাবাব ২৫ টাকা, জালি কাবাব ৪০ টাকা, ফিশ কাবাব ৫০ টাকা, চিকেন উইংস ৩০ টাকা ও চিকেন স্প্রিং রোল ৫০ টাকা। চিকেন ফ্রাই ও চিকেন সাজলিক ৯০ টাকা, চিকেন চাপ ও তান্দুরি ১৪০ টাকা, কাবাব রোল ও শর্মা ১০০ টাকা। চনাবুট কেজি ২০০ টাকা, জিলাপি কেজি ২৬০ টাকা, কাপ ফিরনি ৮০ টাকা, ফিরনি কেজি ৩২০ টাকা (৫০০ গ্রাম ১৬০ টাকা), মাহালাবিয়া কেজি ৪৫০ টাকা (৫০০ গ্রাম ২৩০ টাকা, কাপ ৪৫ টাকা), দইবড়া কেজি ৩৪০ টাকা (৫০০ গ্রাম ১৭০ টাকা)। পাশাপাশি মাটন হালিম কেজি ৮৬০ টাকা, চিকেন হালিম ৬০০ টাকা এবং বিরিয়ানি পাওয়া যাচ্ছে ২৬০ টাকায়।

কাজীর দেউড়ি থেকে আসা ক্রেতা মো. মিজানুর রহমান বলেন, নগরীর অনেক জায়গায় মাটন হালিম ও তেহেরি পাওয়া গেলেও এখানে মানটা ভালো লাগে। তাই বহুদিন ধরেই এখান থেকেই ইফতারি কিনছেন তারা।

একইভাবে শিক্ষার্থী হালিম খান জানান, মিষ্টির পাশাপাশি এখানকার মাটন হালিম তাদের পরিবারের ইফতারের নিয়মিত আইটেম। প্রায় প্রতিদিন অন্যান্য ইফতারির সাথে হালিমও এক কেজি করে কেনা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক হারাধন দত্ত বলেন, প্রতিবছর রমজানে মাটন হালিম, মাটন বিরিয়ানি, শাহী জিলাপি, মাহালাবিয়া ও দইবড়াসহ সব ইফতারি আইটেমের ভালো সাড়া পাওয়া যায়। মান ঠিক রেখে তুলনামূলক কম দামে পণ্য দিতে পারায় তারা সন্তুষ্ট।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুরাদ চৌধুরীর ভাষ্য, ক্রেতাদের সুবিধা ও চাহিদা মাথায় রেখে এবারের রমজানেও নানা ধরনের ইফতার আয়োজন করা হয়েছে, আর প্রতিদিনই ভালো সাড়া মিলছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদলীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যেন জুলুমের শিকার না হয় : জামায়াতের আমির
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে আজ আসছেন অর্থমন্ত্রী খসরু, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আসছেন কাল