ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া যে হলফনামা দিয়েছেন, তাতে তিনি কৃষিখাত থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৭ লাখ ৯ হাজার ৭৬০ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় দেখিয়েছেন ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ১৩৭ টাকা। শেয়ার/সঞ্চয়সহ ব্যাংক আমানত থেকে আয় দেখেয়িছেন ৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকার বেশি।
খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া পেশা হিসেবে রাজনীতি ও ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছেন। মরহুম ছালেহ আহমেদ ভুঞা ও বিয়া ছালেহ’র সন্তান ওয়াদুদ ভূইয়া খাগড়াছড়ি আসনের দুই বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ–কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক। তার স্ত্রী জাকিয়া জিনাত বীথিও পেশা রাজনীতি ও ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হলফমানায় ২৬টি ফৌজদারী মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছে। বাকি ৪টিতে বেকসুর খালাস এবং একটি মামলা নথিজাত অবস্থায় রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, মনোনয়ন জমার তারিখে তার হাতে নগদ অর্থ ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬২০ টাকা। স্ত্রীর কাছে ছিল ৪ লাখ ৯ হাজার টাকার বেশি। ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি, বন্ড, ঋণপত্র স্টক একচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানির শেয়ার (পরিমাণ অর্জনকালীন সময়ের মূল্য, বর্তমান মূল্যসহ) রয়েছে ৫৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট), ডাক সঞ্চয়পত্র এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ, বিমা ও ট্রাস্ট্রের মূল্য, বাস, ট্রাক, মোটরযান ও মোটরসাইকেল ইত্যাদির বিবরণ (অধিগ্রহণকালে মূল্য), সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুসহ অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৫১ হাজার ৬২৯ টাকা।
অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে অকৃষি জমির ও অর্জনকালীন আর্থিক মূল্য ১ কোটি ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ টাকা। ভবন (আবাসিক বা বাণিজ্যিক) অবস্থান এবং অধিগ্রহণকালে আর্থিক মূল্য ২ কোটি ২০ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়ি/এ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা অবস্থান এবং অধিগ্রহণকালে আর্থিক মূল্য ৮৫ লাখসহ মোট অর্জনকালীন স্থাবর সম্পদের মূল্য ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৯ লাখ ২ হাজার ৫১ টাকা। সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ২৫ কোটি টাকা।
হলফমানায় ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানায়, তিনি ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ভোটারদের কাছে করা নির্বাচন পূর্ব প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ আর্থসামাজিক উন্নয়ন করেছেন। এছাড়া সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে রাস্তা, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, ব্রিজ ও শহর সৌন্দর্য্য বর্ধন করেছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের অংশ হিসেবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধকরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
হলফমানা সূত্রে জানা যায়, ওয়াদুদ ভূইয়া সবশেষ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দাখিলকৃত আয়কর রির্টানে আয়ের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৬ টাকা। এছাড়া মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১১ কোটি ৩৪ লাখ ১ হাজার ২৯৫ টাকা এবং মোট প্রদত্ত করের পরিমাণ ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৫২০ টাকা। এছাড়া স্ত্রী জাকিয়া জিনাত বীথির আয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৩৪৫ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫২ টাকা। তার প্রদত্ত করের পরিমাণ ২৯ হাজার ১৯ টাকা।












