হরমুজ প্রণালি পার হতে হলে টোল দিতে হবে, ঘোষণা ইরানের

প্রণালিতে অবরোধ ঘোষণা ট্রাম্পের

আজাদী ডেস্ক | সোমবার , ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে আছে। এই প্রণালি পার হতে হলে টোল দিতে হবে বলে ঘোষণা করেছেন ইরানের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবেয়ি। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স হরমুজ প্রণালির বিষয়টি উল্লেখ করেননি। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় কড়াকড়ি পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের দিকে যাওয়া বা সেখান থেকে বের হওয়া সব ধরনের জাহাজকে অবরোধ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে আটক বা প্রতিরোধ করা হবে। খবর বিডিনিউজ ও বাংলানিউজের।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় এ বিষয়টি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনায় অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে ছিল হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে চলমান যুদ্ধবিরতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা। ইরান পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবায়ি মেহের বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি তেহরানের জন্য একটি রেডলাইন। তিনি বলেন, এই প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং সেখান দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানি মুদ্রা রিয়ালে টোল দিতে হবে।

ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড শনিবার জানায়, নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে এবং সমুদ্রের মাইন অপসারণে কাজ করছে। তবে সেন্ট্রাল কমান্ডের এ দাবি অস্বীকার করেছে ইরান।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

অবরোধ ঘোষণা ট্রাম্পের : যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় কড়াকড়ি পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের দিকে যাওয়া বা সেখান থেকে বের হওয়া সব ধরনের জাহাজকে অবরোধ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে আটক বা প্রতিরোধ করা হবে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী যেসব জাহাজ ইরানকে কোনো ধরনের অর্থ বা টোল দিচ্ছে, সেগুলো শনাক্ত করে বাধা দেয়। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলা জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি ও হস্তক্ষেপ বাড়ানোর কথাও জানান।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো জাহাজ যদি অবৈধভাবে অর্থ প্রদান করে বা কোনো পক্ষকে সহায়তা করে, তবে তাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে না। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ইরানি বাহিনী মার্কিন বা শান্তিপূর্ণ জাহাজের উপর হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে মন্তব্যে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মুক্ত চলাচল নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। তবে ইরান নাকি এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান এমন পরিস্থিতির কথা বলছে যেখানে কোথাও মাইন থাকতে পারে, যা অন্যরা নিশ্চিতভাবে জানে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা হরমুজ প্রণালিতে ইরান কর্তৃক স্থাপিত মাইন অপসারণে কাজ করে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করে।

এই বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে বাড়ল ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা
পরবর্তী নিবন্ধ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা, চুক্তি ছাড়াই শেষ