হত্যার দুই বছর পর আলামত উদ্ধার, রহস্য উদঘাটন

দুই আসামির দায় স্বীকার

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ১২ ডিসেম্বর, ২০২২ at ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়া থানার চাঞ্চল্যকর তপু মালাকার (২৫) হত্যা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করেছে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা টিম। পরে দুই আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে বক্তব্য দেন। স্বীকারোক্তিতে তারা জানায়, পলাতক সহযোগী জনি মালাকার সহ অন্যান্যরা গাছের বাটাম দিয়ে মাথায় আঘাত করে তপু মালাকারকে হত্যা করে।

 

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, তপু মালাকার (২৫) রাঙ্গুনিয়ার মালাকার পাড়ার পনব মালাকারের ছেলে। গতবছর ১ জানুয়ারি তিনি নিখোঁজ হন। ৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে আটটার দিকে মুকুন্দ চেয়ারম্যানের বাড়ির পেছনের পুকুরে তার মৃতদেহ পাওয়ার পর রাঙ্গুনিয়া থানার অপমৃত্যু মামলা হয়। পরবর্তীতে মৃতদেহের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রাপ্তির পর পর্যালোচনা পূর্বক ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হওয়ায় রাঙ্গুনিয়া থানার এসআই মোঃ আলাউদ্দিন সাকিল বাদী হয়ে সূত্রোক্ত মামলাটি দায়ের করেন।

চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটি থানা পুলিশ তদন্তকালে ঘটনার সাথে জড়িত কোনো আসামির নামঠিকানা উদ্‌ঘাটন করতে না পারায় এবং হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটিত না হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত চূড়ান্ত রিপোর্ট গ্রহণ না করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নিমিত্তে পিবিআই, চট্টগ্রাম জেলাকে নির্দেশ প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পিবিআই, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলামকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তিনি এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ এবং আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।

মামলাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের একপর্যায়ে গত ৭ ডিসেম্বর রাতে সন্ধিগ্ধ আসামি বসু কুমার নমকে (৩৩) গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং পুলিশ রিমান্ডে এনে আসামিকে জিজ্ঞসাবাদ করে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি সুবল মালাকার প্রকাশ সপে মালাকারকে (২৭) গত ৯ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামি বাপ্পা চৌধুরীকে (৩২), ৯ ডিসেম্বর রাতে রাঙ্গুনিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১০ ডিসেম্বর রিমান্ডের আবেদনসহ দুই আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামিরা জানায়, তাদের পলাতক সহযোগী জনি মালাকার সহ অন্যান্যরা তপু মালাকারকে গাছের বাটাম দিয়ে মাথায় আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পুকুরের পানিতে গাছের শিকড়ের নিচে লুকিয়ে রাখে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাঙ্গুনিয়ায় হত্যার দুই বছর পর আলামত উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধবিএসসি এক বছরে ১৫৩ কোটি টাকা বেশি মুনাফা করেছে