সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা প্রায় ২৫০ দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। গতকাল সোমবার সকালে বায়েজিদ বোস্তামী থানার পলিটেকনিক মোড় থেকে টেক্সটাইল তারা গেইট পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান চলকালে বায়েজিদ রোডের সিনজেন্টা ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এলাকায় আকতার হোসেন নামে এক অবৈধ দখলদার নিজেকে সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রীর পিএস পরিচয় দিয়ে অভিযানে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাকে আটক করা হয়। পরে অবৈধভাবে গড়ে তোলা দোকানপাট নিজে সরিয়ে নিবে মুচলেকা দেয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। একই অভিযানে ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী। অংশ নেন সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাশেম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০ টায় অভিযান শুরু হয়। চলে বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত। পলিটেকনিক মোড় থেকে শুরু হয়ে নাসিরাবাদ শিল্প এলাকা, মেরিন সিটি কলেজ, টেঙটাইল শিল্প এলাকা হয়ে তারা গেইটে এসে অভিযান শেষ হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পলিটেকনিক মোড় থেকে তরা গেইট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে ফুটপাত দখল করে লোহার স্ট্রাকচার ও টিন দিয়ে অবৈধভাবে স্থায়ী দোকানপাট নির্মাণ করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এছাড়া কয়েক জায়াগায় পাকা দেয়াল দিয়েও দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু কিছু অংশে মূল সড়কেও এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। অভিযানে সবগুলো গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাশেম দৈনিক আজাদীকে বলেন, পলিটেকনিক মোড় থেকে জনশক্তি অফিসের দুই পাশে রাস্তার উপর অনেকগুলো দোকান ছিল। সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়। বাকি অংশেও লোহার স্ট্রাকচার দিয়ে স্থায়ী দোকান ছিল। সেগুলোও উচ্ছেদ করা হয়। সবমিলিয়ে দুই’শ থেকে আড়ই’শ দোকানপাট উচ্ছেদ হয়েছে।
একজনকে আটক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আকতার হোসেন নামে একজন নিজেকে সাবেক এক মন্ত্রীর পিএস পরিচয় দেয়। ফুটপাতে তার ১৫টি অবৈধ দোকান রয়েছে। তাকে আমরা আটক করি। তার যে দোকান সেগুলোর কিছু অংশ আমরা ভেঙে দিই। সম্পূর্ণ দোকান নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিবে মুচলেকা দেয়ায় তাকে ছেড়ে দিই।
অভিযানে সড়ক ও ফুটপাতে নির্মাণ সামগ্রী রেখে পথচারীর চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর দায়ে ম্যাপস ফুট ওয়্যার ও চৌধুরী ফ্যাশনকে ১০ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলেও জানান তিনি। এছাড়া নাসিরাবাদ শিল্প এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের নীচে এডিস মশার বংশ বিস্তারে জমাটবদ্ধ পানির উৎস পাওয়ায় নজরুল ইসলাম নামে ভবন মালিককে ১০ হাজার টাকা এবং দোকানের বর্ধিত অংশ রাস্তায় চলে আসায় দুই ব্যবসায়ীকে সাত হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানান ভ্রাম্যমাণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. জাফর।
এদিকে চসিকের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা মহাজনের নেতৃত্বে নগরের লাভলেইন ও আবেদীন কলোনী এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় এডিস মশার বংশ বিস্তারে জমাটবদ্ধ পানির উৎস পাওয়ায় ভবনের চার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করে ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় জমাটবদ্ধ পানি ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয় ও ভবিষ্যতে যাতে পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য ভবন মালিকদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।











