সড়ক উন্নয়নের দোহাই, শঙ্খে প্রকাশ্যে চলছে বালু লুট

ভাঙনের ঝুঁকিতে দুই তীরের ফসলি জমি ও তীরবর্তী গ্রাম

| মঙ্গলবার , ১৭ মার্চ, ২০২৬ at ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

ভাঙন কবলিত নদী শঙ্খ। যুগ যুগ ধরে হাজার হাজার মানুষ শঙ্খনদীর ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারিয়েছেন। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতি বর্ষায় এখনও ভাঙনের শিকার হচ্ছেন তীরবর্তী সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে এ নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনকে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়। তাই শঙ্খনদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের কোনো নিয়ম নেই। তবে এসবের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

শঙ্খনদীর চন্দনাইশ উপজেলাধীন ধোপাছড়ি ইউনিয়নের চিরিংঘাটা পয়েন্ট থেকে গত কয়েকদিন ধরে প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে হাজার হাজার ঘনফুট বালু তোলা হয়েছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর দুই পাড়ের ফসলি জমি ও তীরবর্তী গ্রামগুলো নদীভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বালু উত্তোলনকারীরা ক্ষমতাশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পান না। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নদী থেকে বালু তোলার জন্য সরকারিভাবে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর চিরিংঘাটা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ সময় বালু উত্তোলন কাজে নিয়োজিতরা জানান, চলমান দিয়াকুলচিরিংঘাটাধোপাছড়ি সংযোগ সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য বালু তোলা হচ্ছে। তারা জানান, নাসির উদ্দীন ও মোক্তার আহমদ নামে দুই ব্যক্তি বালু উত্তোলন করছেন।

এদিকে বর্তমান সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমদ সমপ্রতি তার বিভিন্ন বক্তব্যে শঙ্খনদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এমপির এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই শঙ্খনদী থেকে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

শঙ্খনদীর যে পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তুলে স্তূপ করা হয়েছে, সেই জায়গার জমির মালিকদের কাছ থেকেও অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন জমির মালিকরা। তারা জানান, বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে তারাও কিছু বলতে পারছেন না। সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য বালু উত্তোলনের কথা বলা হলেও তা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, শঙ্খনদীর যে পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করা হয়েছে, সেখানে গত বছর গভীর গর্তে পড়ে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মারা যায়। তিনি বলেন, বর্তমানে যেভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে, তাতে নদীর উভয় তীর ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে। পাশাপাশি মসজিদ, মাদরাসা ও অসংখ্য বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, গত বছর একই স্থান থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে এক গ্রুপের ইন্ধনে পাহাড়ি সন্ত্রাসী আসায় সড়ক উন্নয়ন কাজও বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রায় দেড় বছর পর পুনরায় সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। তবে আবারও শঙ্খনদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এতে পুনরায় সড়ক উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন জানান, শঙ্খনদীর ধোপাছড়ি চিরিংঘাটা অংশে বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সেখানে কোনো বালু মহালও নেই। কারা বালু উত্তোলন করছে তা খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিকাশ-এ তাৎক্ষণিক রেমিটেন্সে স্বস্তি প্রবাসী ও তার প্রিয়জনদের
পরবর্তী নিবন্ধজামেয়া প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারে এ্যাম্বুলেস সংযোজন