চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া অংশের মরিয়মনগর মাছ বাজার সংলগ্ন জমে থাকা বিশাল বর্জ্যের ভাগাড় এখন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও পরিবেশের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারের পচা আবর্জনা ও প্লাস্টিক বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন। শুধু জনস্বাস্থ্যই নয়, এই বর্জ্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে শস্যভাণ্ডার খ্যাত গুমাইবিলের ওপর।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৩০টির মতো মাছের আড়তকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত এখানে বাজার বসে। বাজারের যাবতীয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত প্লাস্টিক সরাসরি মহাসড়কের পাশেই ফেলা হচ্ছে। মরিয়মনগর মাছ বাজারের পেছনের খালটি বর্জ্যের কারণে প্রায় ভরাট হওয়ার পথে। এছাড়া অদূরেই অবস্থিত আন্তর্জাতিক মানের একটি বৌদ্ধ বিহার, যেখানে দেশ–বিদেশের পুণ্যার্থীরা আসেন। এই দুর্গন্ধময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের দুর্ভোগ হচ্ছে।
সমপ্রতি পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বেলা’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষকরা তাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানান। তারা বলেন, বৃষ্টির পানিতে এসব অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য ভেসে সরাসরি গুমাইবিলে গিয়ে পড়ছে।
মোহাম্মদ লোকমান নামে স্থানীয় এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, গুমাইবিল আমাদের পেটে ভাত দেয়, কিন্তু বাজারের প্লাস্টিক আর পচা বর্জ্য এখন বিলে ঢুকে মাটি নষ্ট করে দিচ্ছে। চাষ দিতে গেলে লাঙলে প্লাস্টিক আটকে যায়। আমরা এই মরণফাঁদ থেকে মুক্তি চাই।
রাঙ্গুনিয়া হয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক কাপ্তাইসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন কেন্দ্রে যান। মহাসড়কের এই অংশের দুর্গন্ধ পর্যটকদের কাছে এলাকার নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরছে। বাস যাত্রী সিফাত আহমেদ বলেন, এই এলাকায় এলে জানালার কাচ বন্ধ করেও দুর্গন্ধ আটকানো যায় না। পর্যটকরা রাঙ্গুনিয়া সম্পর্কে কী ভাববেন!
মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তবে তারা কেবল নিজেদের দায়ী মানতে নারাজ। তাদের মতে, পুরো বাজারের ময়লা এখানে ফেলা হলেও সব দায় চাপে মাছ বাজারের ওপর।
এ ব্যাপারে মরিয়মনগর ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক মো. সৈয়দ জানান, সড়কের পাশের এই বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে একটি নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এছাড়া বাজারের ব্যবসায়ীদেরও এই ব্যাপারে সচেতন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এটি জনস্বাস্থ্য এবং গুমাইবিলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা দ্রুত বাজার কমিটির সাথে বসব। যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গুমাইবিলের উর্বরতা রক্ষায় প্রশাসন কোনো ছাড় দেবে না। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং মহাসড়কের পাশ থেকে ডাম্পিং স্টেশন সরানো না হলে রাঙ্গুনিয়ার পরিবেশ ও কৃষি ঐতিহ্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।








