একুশে পদকপ্রাপ্ত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে শুধু কাপড়ে চোপড়ে স্মার্ট হলে হবে না, স্মার্ট হতে হবে অর্থনৈতিক ভাবে–সাংস্কৃতিক ভাবে, সর্বোপরি নিজের ভেতর থেকে চারিত্রিকভাবে। তোমাদের পেশাগত সততা এমন হবে, যা এই পৃথিবীকে বদলে দেবে। নেলসন ম্যান্ডেলাকে উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা হচ্ছে এমন একটি অস্ত্র যা দিয়ে দুনিয়াটাকে পাল্টে দেয়া যায়। নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইকে উদ্ধৃতি দিয়ে এম এ মালেক বলেন, একটি কলম, একটি বই এবং একটি শিশু পৃথিবীকে পাল্টে দিতে পারে। তিনি ইস্টডেল্টা ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদের পৃথিবী পাল্টানোর সেই অস্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, মানুষের অসাধ্য কিছু নেই, মানুষের জন্য অসম্ভব বলেও কিছু নেই। আমি যেটা পারবো না সেটা আপনি পারবেন, আপনি যেটা পারবেন না সেটা অন্য কেউ পারবে। আর এভাবে সকলেই মিলেই পৃথিবীকে সবার বাসযোগ্য একটি সুন্দর পৃথিবী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি এক্সেস একাডেমি গ্র্যাজুয়েশন সিরোমনি ২০২৩ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে স্ফুলিঙ্গটা আছে সেটাকে জাগিয়ে দেওয়ার মন্ত্রই হচ্ছে শিক্ষা। এই শিক্ষার মাধ্যমে আমরা আমাদের মন, শরীর ও আত্মাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শিখি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, তবে সততাকে আঁকড়ে ধরে। তিনি ছাত্রছাত্রীদের বয়স বাড়লেও আজকের চরিত্রটা ধরে রাখারও আহ্বান জানান। একুশে পদক প্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক এম এ মালেক শিক্ষার্থীদের বলেন, পৃথিবীতে সবায় চায় তাকে অন্যরা সম্মান করুক, কিন্তু সম্মান আপনা–আপনি কেউ করে না, এটাকে অর্জন করে নিতে হয়। আজ এখানে যারা বিশেষ কোর্স শেষ করে সার্টিফিকেট নিচ্ছেন তাদের চারিত্রিক ভাবে সমৃদ্ধ হতে হবে, কোনো ভাবেই ক্যারেক্টার লেস হওয়া যাবে না। মহান ভাষা আন্দোলনে দৈনিক আজাদীর ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৫২ সালে ভাষার দাবিতে চট্টগ্রামের সন্তান মাহবুব উল আলম চৌধুরী একটি কবিতা লিখেছিলেন ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’। বাবা জানতেন ছাপলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, কিন্তু তারপরও কোহিনুর ইলেকট্রিক প্রেস থেকে কবিতাটি ছাপানো হয়েছিল। যে কারণে আজাদীর এক কর্মকর্তাকে ছয়মাস জেল খাটতে হয়েছিল। একুশে পদকপ্রাপ্তিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মন্তব্য করে এম এ মালেক বলেন, এই অর্জনের ফলে শেষ গন্তব্যে যাওয়ার সময় আমার কফিন জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত থাকবে। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আমি যেনো এই লাল সবুজ পতাকার সম্মান রক্ষা করে যেতে পারি।
ইস্ট ডেল্টা ইউনির্ভাসিটির উপাচার্য প্রফেসর মু. সিকান্দর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইভেন্ট কো অর্ডিনেটর অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম চৌধুরী বহ্নি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিতির বক্তব্য রাখেন স্কুল অব লিবারেল আর্টস এন্ড সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ডিন মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, স্কুল অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশনের ডিন ড. মোহাম্মদ রকিবুল কবির, স্কুল অব সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজির ডিন ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মু. সিকান্দর খান বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সেস একাডেমি মূল একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি একটি বিশেষ কোর্স। যা শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিত ভিতি দূর করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রফেশনাল লাইফের শিক্ষার্থীদের পথচলা সহজ করতে ভূমিকা রাখছে। এখানে বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলা হয়। এই কোর্সের শিক্ষকরাও বিশেষভাবে বাছাই করা।
যারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে শিক্ষার্থীদের ঘাটতিগুলো দূর করার জন্য নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেন। যার সুফল আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি। এবারের এক্সেস একাডেমি গ্র্যাজুয়েশন সিরমনিতে তিনটি স্কুলের (অনুষদ) অধীনে থাকা ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। এর আগে ২০১৯ সালে ইস্ট ডেল্টা ইউনির্ভাসিটি তাদের প্রথম এক্সেস একাডেমি গ্র্যাজুয়েশন সিরোমনি অনুষ্ঠান করেছিল।








