স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যানের বাসা লক্ষ্য করে ফের গুলি

চাঁদা না পেয়ে এর আগেও গুলি করা হয়েছিল ৪ মুখোশধারী এসে গুলি করে কয়েক মিনিটের মধ্যে চলে যায় : পুলিশ

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১ মার্চ, ২০২৬ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে ফের গুলির ঘটনা ঘটেছে। ৪ জন মুখোশধারী অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ হামলা চালায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেছেন, কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা মুখোশ পরে এসে তার বাসা লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। প্রথমে ১০ কোটি টাকা, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, সকালে নামাজ পড়ে সবাই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ বাসার পেছনে মুখোশ পরা অস্ত্রধারীরা গুলি করতে থাকে। ৬ থেকে ৭ রাউন্ড গুলি করা হয়।

তিনি বলেন, সিকিউরিটি গার্ড সন্ত্রাসীদের দেখতে পেয়ে বাসার পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি জানায়। পুলিশ সদস্যরা বাসার দোতলায় উঠে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে এর আগে সন্ত্রাসীরা চলে যায়। সন্ত্রাসীদের হাতে পিস্তল, চায়নিজ রাইফেলসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিল।

ঘটনার বিষয়ে মামলা করেছেন কি না জানতে চাইলে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামলা করে কী হবে? পুলিশ আছে, এর মধ্যে গুলি করেছে। গত ২ জানুয়ারিও চাঁদার দাবিতে তার বাসা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সেবারও চাঁদা না পেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠায় সাজ্জাদ আলী। এতে লেখা হয় ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পরা চারজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের বাসার সামনে আসে। এরপর বাসাটি লক্ষ্য করে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছুড়তে থাকে।

পুলিশ জানায়, চারজন সন্ত্রাসীর মধ্যে একজনের দুই হাতে দুটি পিস্তল ছিল। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন সাবমেশিনগান (এসএমজি), একজন চায়নিজ রাইফেল এবং অন্যজন শটগান থেকে গুলি ছোড়ে।

এদিকে খবর পেয়ে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলযোগে ওই এলাকায় আসে। গাড়ি একটু দূরে রেখে হেঁটে বাসার কাছে গিয়ে গুলি করে। এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদার জন্য বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ তার লোকজন দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অস্ত্রধারীরা মুখোশধারী হওয়ায় তাদের সহজে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তবে সাজ্জাদের সহযোগী সন্ত্রাসী মো. রায়হান ও বোরহান এ ঘটনায় জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানের চন্দনপুরার বাসাটিতে গুলি ছোড়া হয়। তখন বাসাটির জানালা ও দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে বাসাটিতে পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইরানে হামলায় বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
পরবর্তী নিবন্ধমধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক