ফটিকছড়ি উপজেলায় এক ব্যক্তি নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) স্মার্ট কার্ডে অন্য এক নারীর ছবি সংযুক্ত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ভুক্তভোগীর নাম আবদুল মন্নান।
জানা যায়, উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বৈদ্যেরহাট এলাকার কোরবান আলী হাজীর বাড়ির বাসিন্দা আবদুল মন্নানের জাতীয় পরিচয়পত্র ২০১০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রদান করা হয়। ওই কার্ডে তার নাম–ঠিকানা ও ছবি সবই সঠিক ছিল। কিন্তু সমপ্রতি ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ইস্যুকৃত স্মার্ট কার্ড হাতে পেয়ে তিনি বিস্মিত হয়ে পড়েন। কারণ, তার নিজের ছবির স্থানে সেখানে অজ্ঞাত এক নারীর ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আবদুল মন্নান বলেন, এটা আমার জন্য খুবই বিব্রতকর ও চিন্তার বিষয়। যেকোনো কাজে আইডি দেখাতে গেলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত এটি ঠিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। এ বিষয়ে নাজিরহাট পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আমান উল্লাহ বলেন, আইডি কার্ডে ভুলের কোনো অন্ত নেই। আবদুল মন্নান আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার আইডি কার্ডে ছবি ঠিক থাকলেও স্মার্ট কার্ডে অন্য একজনের ছবি দেয়া হয়েছে দেখেছি; যা খুবই দুঃখজনক। এছাড়াও অনেক আইডি কার্ডে জীবিত ব্যক্তিকে স্মার্ট কার্ডে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ভুলের কারণে মানুষকে সেবা পেতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি সেবার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিসার রকর চাকমা জানান, সফটওয়্যারজনিত ত্রুটির কারণে এমন ভুল হয়েছে। বিষয়টি সংশোধনের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। অফিস থেকে ছবি সংগ্রহ করে সার্ভারে আপলোড করে জেলা নির্বাচন অফিসে পাঠানো হবে। আশা করা যায়, আগামী এক মাসের মধ্যে এটি ঠিক হয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, তার দায়িত্বকালীন এ ধরনের ২–৩টি ছবিজনিত ভুল শনাক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, এটা আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা। সফটওয়্যারের সমস্যার কারণে এ ধরনের ভুলভ্রান্তি হচ্ছে। এ ধরনের সমস্যা সমাধানে নির্বাচন অফিসে আবেদন করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। স্থানীয়রা বলছেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডাটাবেজে এ ধরনের ভুল নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।














