দেশে প্রত্যেক শ্রেণির পেশাজীবীদের সংগঠন রয়েছে। সরকারি বেসরকারি প্রত্যেক পেশা ও পেশাজীবীরা দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত। শিক্ষা চিকিৎসা পরিবহন যোগাযোগ বিদ্যুৎ গ্যাস বন্দর ইত্যাদি প্রত্যেকটা দপ্তর অধিদপ্তর জাতির সেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব দপ্তরে যারা নিয়োজিত তারা প্রত্যেকে নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দাবি দাওয়া আদায়ে সর্বদা সচেতন সচেষ্ট। আমরা একটি বিষয় লক্ষ্য করি পেশাজীবীদের দাবি দাওয়ায় নিজেদের পেশাগত দক্ষতা অভিজ্ঞতা মানোন্নয়ন কাজের গতিশীলতা উৎপাদন উন্নয়ন দায়িত্ব পালনে আমলাতান্ত্রিক বাধা বিঘ্ন সমস্যা ভুল ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সমাধানের কোন বিষয় থাকে না এসব সংগঠনের দাবি দাওয়া গুলো ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ চরিতার্থে অধিক তৎপর। ব্যবসায়ী সংগঠন জনসাধারণের ভোগ্যপণ্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহকারি ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য মজুদদারি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের গলাকাটে এটাও সংগঠনের মাধ্যমে এখানে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ছাড়া জনস্বার্থ উপেক্ষিত। ব্যবসায়ীরা বৎসরে শুধু রমজান মাসে একমাস জনস্বার্থে ভূর্তকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করার মানবিক দৃষ্টান্ত রাখতে পারে বরং তাদের সিন্ডিকেট বাণিজ্যের তদারকি করতে গেলে সরকারি কর্মকর্তার উপর মব সন্ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করে। সম্প্রতি ভোক্তা অধিকারের ম্যাজিস্ট্রার আব্দুল জব্বার মন্ডলের সাথে ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনা দুঃখজনক এর দায় ব্যবসায়ীরা এড়াতে পারে না। এক্ষেত্রে গণপরিবহন সেক্টর আরো বেশি স্বার্থপর ও বেপরোয়া সাধারণ মানুষ শোষিত ও হয়রানির শিকার হচ্ছে তাদের হাতে ঈদ পূজা সরকারি ছুটি দৈনন্দিন যাত্রী সাধারণের যাতায়াতে গাড়ির চাহিদাকে পুঁজি করে পকেট কাটতে তৎপর অথচ পরিবহন মালিক শ্রমিক সংগঠনের দাবি দাওয়ার শেষ নেই সেখানে যাত্রী সাধারণের সেবার মানোন্নয়নে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব পরামর্শ থাকে না। ডাক্তারদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে রয়েছে অনেক সংগঠন ভেজাল খাদ্যে মানুষ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে নকল ঔষধ মানহীন ঔষধ মানুষের জীবনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে জীবন রক্ষাকারি ঔষধের সংকট ভুয়া ডাক্তার অপচিকিৎসা ভুল চিকিৎসা এসব ব্যাপারে তারা নীরব তাদের স্বার্থ পরিপন্থী কিছু হলে আন্দোলনের নামে জিম্মি করে সাধারণ মানুষকে। বন্দর জাতির অর্থনীতির প্রাণস্পন্দন এর পরিচালনায় আধুনিকায়ন যোগ্যতা দক্ষতা কারিগরি সক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারী শ্রমিকদের নেই সে যোগ্যতা নিজেরা ও অর্জন করে না আবার অন্যদের সংশ্লিষ্টতা ও তারা মেনে নেয় না তাদের দাবি দাওয়ার মধ্যে কর্মদক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কোন বিষয় নেই। বিদ্যুৎ তেল গ্যাস চুরি অপচয় দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারী কর্তৃক অহরহ সংঘটিত হচ্ছে তাদেরও রয়েছে স্বার্থ আদায়ের নানা সংগঠন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকারের শাসনামলে তারা দাবি দাওয়া নিয়ে দরকষাকষি করে অথচ সেখানে তাদের অপকর্ম অপচয় চুরি দুর্নীতি বন্ধের কোন সুপারিশ দিক নির্দেশনা কখনো দেখা যায় না। সরকারি বেসরকারি প্রত্যেক মন্ত্রণালয় দপ্তর অধিদপ্তর দেশ ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত সেখানে যারা কর্মরত প্রত্যেকে জাতির সেবায় নিবেদিত জাতির উন্নয়ন উন্নতির তারা ও একটি অংশ এবং তারা জাতির কাছে দায়বদ্ধ। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সততা ন্যায়নিষ্ঠ কর্তব্যপরায়ণ আন্তরিকতার প্রতিফলন ও স্বীয় কাজের সেবার মানের জবাবদিহিতা জাতি আশা করে। সাধারণ জনগণ অসংগঠিত বলে পেশাজীবীদের অযৌক্তিক দাবি দাওয়ার বলির পাঠায় পরিগণিত। পেশাজীবীদের যৌক্তিক দাবির সাথে দেশ ও জনগণের স্বার্থ সম্পৃক্ততা থাকবে সেটাই জাতির প্রত্যাশা।










