একজন সালাহউদ্দিন আহমদ। দুর্দান্ত মেধাবী, বিচক্ষণ ও ব্যতিক্রমী নেতৃত্বগুণ সম্পন্ন রাজনীতিবিদ। বংশগত বা পারিবারিক প্রথাগত ধারা ভেঙে এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে অন্যতম জাতীয় নেতায় পরিণত হয়েছেন। বিএনপির নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের নতুন যাত্রায় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। গতকাল রাষ্ট্রপতির কাছে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে স্বাধীনতার পর কক্সবাজারের একমাত্র ও পূর্ণ মন্ত্রী হলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এর আগে রেকর্ড গড়ে ২০০১ সালে নির্বাচনে তিনি কক্সবাজারের প্রথম প্রতিমন্ত্রী (যোগাযোগ) হয়েছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ায় কক্সবাজারে খুশির আমেজ লেগেছে। আনন্দে মাতোয়ারা মানুষ। এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ায় কক্সবাজারের খুশির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। সর্বস্তরের মানুষ খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েছেন। আনন্দে পাড়ায় পাড়ায় মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করা হয়েছে।
জ্ঞানে–গুণে সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমান জাতীয় রাজনীতিতে দুই–তিনজন রাজনীতিবিদের তালিকায় রয়েছেন বলে মনে করা হয়। এক সময় বক্তব্য দিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিয়ে ২০১৫ সালে গুমের শিকার হন। এরপর ভারতের নির্বাসিত জীবন ও বহু পরিক্রমা গড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় দেশে ছিলেন না। তারপরও নিজ যোগ্যতায় দলে অনন্য গুরুত্বে আসীন হন সালাহউদ্দিন আহমদ। বলা হয়, ভারতে নির্বাসনে থাকতেই তারেক রহমানের আস্থার এক নম্বর স্থানটি অর্জন করে নেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তা দেখা গেছে গণ–অভ্যুত্থানের পর বিএনপিতে তার নেতৃত্বের অবস্থানসহ নানা ক্ষেত্রে। তার মধ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করে তাক লাগিয়ে দেন। সেখানে তর্কে–বিতর্কে এই মেধাবী রাজনীবিদের যুক্তি খণ্ডানো কারো পক্ষে প্রায় সম্ভবপর ছিল না। এরপর থেকে বর্তমান জাতীয় রাজনীততে জ্ঞানের কাঠিতে সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রথম স্থানে থাকা জাতীয় নেতা বলছেন অনেকে।
এরপর তারেক রহমানের দেশে আগমনের প্রাক্কালে সালাহউদ্দিন আহমদের গুরুত্ব কতটা তা তো দেখেছে জনে জনে। এতে বলা হচ্ছে, নয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চোখ বন্ধ করে সালাহউদ্দিন আহমদের উপর নির্ভর করে থাকেন। সে মূল্যায়ন থেকেই নিঃসংকোচে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সর্বোচ্চ গুরুত্বশীল মন্ত্রণালয় সালাহউদ্দিন আহমদকে সমর্পণ করেছেন।
এ তো গেল জাতীয় স্তরের গল্প। এবার শোনা যাক কক্সবাজারের শ্রেষ্ঠসন্তান ও এই অঞ্চলের মানুষের অহংকার আর গর্বের ধন সালাহউদ্দিন আহমদের গল্প। স্বাধীনতার পর কক্সবাজার থেকে একমাত্র সালাহউদ্দিন আহমদই মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন। প্রথমবার ২০০১ সালের নির্বাচনে গঠিত বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারে তরুণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এবার ২০২৬ এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীত্ব পেয়ে কক্সবাজারবাসীর আসন এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এভাবে একে একে রেকর্ড করে কক্সবাজারের মাটি ও মানুষকে সার্থক করে দিয়েছেন তিনি।
শুধু তাই নয় সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনে বিএনপির জয়েও সালাহউদ্দিন আহমদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রেখেছেন মনে করেন সচেতন লোকজন। তার নিজ আসন ছাড়াও অন্য তিনটিতে গিয়ে জনসভায় বক্তব্য রেখে জয় নিশ্চিত করেছেন। এসব জনসভায় মুগ্ধতার ছড়ানো ক্যারিশমাটিক বক্তব্য রেখে ধানের পক্ষে মানুষের মন জয় করেন তিনি। না হলে কক্সবাজার–২ ও কক্সবাজার–৪ আসনটি হাতছাড়া হয়ে যেত মনে করেন নেতাকর্মীরা।
কক্সবাজারে এখন এক অনন্য ভালোবাসা ও আর গর্বের নাম সালাহউদ্দিন আহমদ। এখানে মানুষের মুখে মুখে ঘুরে তার গৌরবগাঁথার গল্প। সেই তিনিই এখন কক্সবাজারের ‘হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা’। তার যোগ্য নেতৃত্বের বাঁশির সুরে মাতোয়ারা এখানকার মানুষ। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার–৪ আসনের সদ্য নির্বাচিত সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারবাসীকে গৌরবান্বিত করেছেন। তার অর্জনে আমরা সবাই গর্বিত। তিনি আরো উচ্চতায় যাবেন– আমরা এটাই প্রত্যাশা করি।
১৯৬২ সালের ৩০ জুন কক্সবাজারের তৎকালীন চকরিয়া উপজেলার পেকুয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সিকদার পাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তার পিতার নাম মৌলভি ছাঈদুল হক ও মাতা বেগম আয়েশা হক। ১৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক শপথের মাধ্যমে তিনিই হলেন মুক্তিযুদ্ধের পর কক্সবাজার থেকে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম পূর্ণ মন্ত্রী। ১৯৭৭ সালে পেকুয়ার শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেকর্ড সংখ্যক নম্বর পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তুখোড় মেধাবী সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপর চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসিতেও দারুণ ফলাফল করেন। ১৯৮০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং কৃতিত্বের সাথে ১৯৮৪ সালে এলএলবি ও ১৯৮৬ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ–সভাপতি এবং কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতিও ছিলেন।
১৯৮৫ সালের ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় (প্রশাসন) উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসাবে নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে বেগম খালেদা জিয়ার সান্নিধ্য পাওয়া সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৯৬ সালে চাকরি ছেড়ে আহ্বায়ক হিসেবে কক্সবাজার জেলা বিএনপির হাল ধরেন এবং একই বছরে পরপর দুটি সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ক্রমান্বয়ে বিরল যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছেন। অতি নিকট আগামীতে দলের মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনার কথাও এখন মানুষের মুখে মুখে।
উল্লেখ্য, ব্যক্তিজীবনে চার সন্তানের জনক সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ ২০০৮ সালের নির্বাচনে কক্সবাজার–১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।











