বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার–১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে আছে বিএনপি। ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। জুলাই সনদের বাইরে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। যেটা জাতীয়ভাবে ঐকমত্য হবে, সে বিষয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ। যেটা ঐকমত্য হয়েছে, সেই বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় কঙবাজার পেকুয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে পেকুয়া উপজেলা তানজিমে আহলে হক্ব আয়োজিত ওলামা–মাশায়েখ সম্মেলন ও ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে রাষ্ট্র পর্যায় পর্যন্ত আলেম ওলামাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে, রাষ্ট্র পরিচালনায় আলেম ওলামাদের সুপরামর্শ নেওয়া হবে। দুটি ধর্মীয় উৎসবে উৎসব ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই যে আলেমদের সম্মাননা দেয়ার গুরুত্বটা রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুধাবন করা হলো– এটাই সবচেয়ে বড় সম্মাননা ও বড় স্বীকৃতি।
তিনি বলেন, আগামীতে বিএনপি কি করবে তার এজেন্ডার মধ্যে প্রথম ইমাম–মুয়াজ্জিন ও খতিবদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ভাতার আওতায় আনতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এটি প্রস্তাবনা করে রেখেছেন। তিনি বলেন, ইমাম মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করা হবে যেখানে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অনুদান প্রদান করে হবে। সেখান থেকেই ইমাম মুয়াজ্জিন ও খতিবদের সহযোগিতা করা হবে। ইউনিয়ন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়– সবখানে আলেম ওলামাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নেয়া হবে আলেম ওলামাদের সুপরামর্শ।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। এখনও আরও একটি রাজনৈতিক দল যারা স্বাধীনতার সময় অন্য একটি দেশের গোলামি করেছে, তারাও ফ্যাসিস্টদের ভাষায় কথা বলছে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে আমরা দেখেছি বিনা কারণে আলেম ওলামাদের অপরিসীম নির্যাতন করেছে, কারাগারে নিক্ষেপ করেছে, অনেকেই কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছে। তারা আলেম বিদ্বেষী, ইসলাম বিদ্বেষী সরকার ছিল। কিন্তু বর্তমান জামানায় এসে দেখছি দাড়ি টুপি পরে মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, রাজনীতির নামে ইসলামকে কলুষিত করছে, আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুক। আমরা মদিনার প্রকৃত ইসলাম বিশ্বাসী করি, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রদর্শিত ও চর্চিত ইসলাম বিশ্বাস করি। যারা আজমতে সাহাবায়ে বিশ্বাস করে না তারা রাসুলুল্লাহকে (সা.) অসম্মান করে।
এ সময় তিনি আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংবিধানে প্রথমবারের মতো বিসমিল্লাহ সংযোজন এবং মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন তা আপনারা জানেন, যেটা আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী সরকার বিলুপ্ত করে দিয়েছিল। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আমরা যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত হই, তাহলে সংবিধানের মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস পুনরায় সংযোজন করব ইনশাআল্লাহ।
কঙবাজার জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক আলী হাছান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও কঙবাজার বাইতুর রহমান জামে মসজিদের খতিব ক্বারী আতাউল্লা গনির সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন মাওলানা ইয়াছিন সোলতানী, বদরখালী মদিনাতুল মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সোলাইমান, আশরাফুল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শহিদ উল্লাহসহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠান শেষে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।












