স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করতে হবে

| রবিবার , ১ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে প্রথম নগরীর পতেঙ্গায় একটি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তিনি বলেছেন, দেশের ১৪টি জেলার ১৪টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গার একটি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হবে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, জেলা প্রশাসক নির্বাচিত ওয়ার্ড নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তাকে ডেকে আলোচনা করেছেন, যাতে একটি নির্ভুল ও বাস্তবসম্মত তালিকা প্রস্তুত করা যায়। যারা প্রকৃত দাবিদার, বিশেষ করে অসহায় নারীরা, তারা যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না হনসেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক বলেন, রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নে আমরা বদ্ধপরিকর এবং সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, সারা দেশে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন যুগান্তকারী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, যা ইতোমধ্যে সারাদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ অতি দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্ধারিত কমিটি কাজ করবে। তবে আমরা শুধু ওই কমিটির ওপর নির্ভর করব না। সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কীভাবে এই নীতিমালা আরও নির্ভুল ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। মনিটরিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ধাপে ধাপে প্রতিটি কার্যক্রম তদারকি করা হবে, যাতে কোনো ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত না হয় এবং কোনো অসহায় নারী বাদ না পড়েন। প্রত্যেক যোগ্য নারীর ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, সামাজিক সুরক্ষা বা সোশ্যাল প্রোটেকশন কর্মসূচি সরকারের জন্য নাগরিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর মাধ্যমে মানুষকে ঝুঁকি ও বঞ্চনা থেকে রক্ষা করা হয়, যাতে তারা উন্নত জীবনের পথে এগোতে পারে। সরকারের নতুন প্রকল্প ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্দেশ্যও একই বলে মনে হচ্ছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেন। একই দিনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া, যোগ্যতার মানদণ্ড এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে নগদ অর্থ, খাদ্য ও সম্পদভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর মূল লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা কমানো। সংবিধানের ১৫ () অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পরিকল্পিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের জীবনমানের ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বযাতে বেকারত্ব, অসুস্থতা, অক্ষমতা, বার্ধক্য, বিধবা বা এতিম অবস্থার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নাগরিকরা রাষ্ট্রীয় সহায়তা পায়।

জানা যায়, এখনকার ফ্যামিলি কার্ড পরবর্তী সময়ে সোশ্যাল আইডি কার্ডে রূপ নেবে। টিসিবি, ওএমএস কার্ডসহ অন্যান্য সুবিধা মিলবে সোশ্যাল আইডি কার্ডের মাধ্যমেই। চলতি বছরেই দুই কোটি পরিবারে কার্ড বিতরণের কথা ভাবছে সরকার। শুধু দরিদ্রদের জন্য নয়, বরং ২০৩০ সালের মধ্যে সব নাগরিকের জন্য পরিচিতিমূলক কার্ড বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকার বলছে, সোশ্যাল আইডি কার্ডের মাধ্যমে নগদ আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্য বীমা, শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষি ভর্তুকি, বয়স্ক ভাতা ও পেনশন সুবিধাও পাওয়া যাবে।

তবে এসব প্রকল্পে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, তার দিকে লক্ষ রাখতে হবে। কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। হতদরিদ্রদের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ধারীরা যেন সুবিধা গ্রহণ করতে না পারে, তারজন্য কঠোর থাকতে হবে। আমরা চাই, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্টরা সতর্ক থাকবেন, কোনো হতদরিদ্র যেন বঞ্চিত না হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে