স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার প্রস্তুতি

| বুধবার , ৪ মার্চ, ২০২৬ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার প্রস্তুতি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জ্বালানি আমদানির বিল দ্রুত পরিশোধে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা জোগানেও বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

বিষয়গুলো সম্পর্কে জানেন জ্বালানি বিভাগের এমন কর্মকর্তারা গতকাল মঙ্গলবার বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপটে কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্চ মাসে দেশের চাহিদা মেটাতে কমপক্ষে আট কার্গো এলএনজি প্রয়োজন। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত কার্গো আনার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পরে এ বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে প্রধানমন্ত্রীর তরফে। খবর বিডিনিউজের।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এদিন রাতে বলেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। তাৎক্ষণিক কোনো সংকটের আশঙ্কাও নেই। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রয়োজন অনুযায়ী স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কেনার জন্য সব ধরনের প্রক্রিয়াগত, আর্থিক ও সরবরাহ সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো ঠিক করতে হবে। কোথা থেকে আনা হবে, কীভাবে আনা হবে, এসব নির্ধারণের পরই প্রস্তাব যাবে। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত কয়েকটি কার্গো ইতোমধ্যে দেশে এসেছে এবং কয়েকটি পথে রয়েছে। বাকি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়া কিংবা আটকে যাওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। পরিস্থিতি দুইএকদিন গেলে আরো পরিষ্কার হবে।

দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৬০০ থেকে ২৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৯০০ থেকে ৯৮০ এমএমসিএফডি আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। দেশে গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা মেটাতে বছরে ১১০ থেকে ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করতে হয়, যার বড় অংশ কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আসে।

পেট্রোবাংলার ৩ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২৬৬২ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫২ এমএমসিএফডি এসেছে আমদানি করা এলএনজি থেকে। গৃহস্থালীতে রান্নার কাজে বেশি ব্যবহার হওয়া এলপিজির বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ বলছে, ফেব্রুয়ারিতে খোলা এলসির আওতায় মার্চ মাসে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার টন এলপিজি দেশে আসার কথা। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কিছু চালান বিলম্বিত হতে পারে। এ অবস্থায় বেসরকারি আমদানিকারকদের বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাঁচল না শিশুটি
পরবর্তী নিবন্ধদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা