সিটি করপোরেশন–পৌরসভা, জেলা পরিষদ–উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যাদি (মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ) জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের নির্বাচনের তথ্য আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠনোর জন্য মাঠ কর্মকর্তাদের সময় বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গত মঙ্গলবার ইসির উপ–সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সংক্রান্ত চিঠি মাঠ কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছেন।
গতকাল নির্বাচন কমিশনের এই চিঠি পাওয়ার পর চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যাদি (এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ কবে ৫ বছর পূর্ণ হবে তার তথ্য) নির্দিষ্ট ছক অনুযায়ী প্রস্তুত করার কাজ শুরু করেছেন। গতকাল চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান গুলোর নির্বাচিত পরিষদের (মেয়র, পৌর মেয়র, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান–উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যান) প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর কবে পূর্ণ হচ্ছে তার তথ্য চেয়েছে। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী (সিটি কর্পোরেশন) নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর একটি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ গণনা করা হয়। মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর একটি জেলা পরিষদ ও পৌরসভার মেয়াদ গণনা করা হয়। এদিকে স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী নির্বাচিত পরিষদের শপথ গ্রহণের পর থেকে পরবর্তী ৫ বছর উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ গণনা করা হয়।
চলতি বছর সারদেশে সাড়ে চার হাজার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভোট করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। তাই প্রস্তুতি গুছিয়ে নিতেই এই চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে সংস্থাটি। গত মঙ্গলবার ইসির উপ–সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের তথ্য হালনাগাদ করার লক্ষ্যে অঞ্চলভিত্তিক সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যাদি নির্দিষ্ট ছক অনুযায়ী প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের তথ্য আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে (হার্ড কপি ও সফট কপি) সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার তথ্য নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়–১ শাখায়, আর জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের তথ্য নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়–২ শাখায় এবং ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়–৩ শাখায় প্রেরণ করতে হবে। চট্টগ্রাম জেলায় ১৫টি উপজেলা এবং ১৯৪টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এছাড়াও ১৫টি পৌরসভা রয়েছে। পৌরসভা গুলো হলো–মীরসরাই পৌরসভা, বারইয়ারহাট পৌরসভা, সন্দ্বীপ পৌরসভা, পটিয়া পৌরসভা, রাউজান পৌরসভা, সাতকানিয়া পৌরসভা, বাঁশখালী পৌরসভা, চন্দনাইশ পৌরসভা, সীতাকুণ্ড পৌরসভা, হাটহাজারী পৌরসভা, দোহাজারী পৌরসভা, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা, বোয়ালখালী পৌরসভা, ফটিকছড়ি পৌরসভা ও নাজিরহাট পৌরসভা। এদিকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে ইসির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য চিঠি এসেছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পাঠানো পৃথক দুই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হয় গত ২২ ফেব্রুয়ারি। এছাড়া ২০২০ সালের ২ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী গত বছরের ১ জুন এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর ২০২০ সালের ৩ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন।
এদিকে সিটি করপোরেশ নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে, সে সিদ্ধান্তের জন্য সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কোন মাধ্যমে হবে (দলীয় প্রতীকে হবে নাকি নির্দলীয় ভাবে হবে) সেটা নির্ধারণ হওয়ার পরপরই নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের যেসব সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে সেগুলোর তফসিল (মেয়র ও কাউন্সিলর পদ শূণ্য ঘোষণা করে) ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।










