সোমার একুশ

শ্যামল বণিক অঞ্জন | বুধবার , ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ

আজকে সোমার মনটা খুব ভালো, সোমা আজ ভীষণ আনন্দিত! এবারের মাতৃভাষা দিবসে এক ভিন্ন রকম অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে সোমার মনে! কারণ, আজই প্রথম কোন জাতীয় দৈনিকে সোমার লেখা ছড়া ছাপা হয়েছে! আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সংখ্যাতে আজ সোমার লেখা একটি ছড়া ছাপা হয়েছে। তাই আনন্দে উদ্বেলিত সোমার মন প্রাণ!

সকাল থেকেই পরিচিতজনদের ফোনে সোমা জানাচ্ছে আজ আমার জীবনের মনে হয় সব থেকে বড় খুশির দিন! জানিস অবন্তী, আজ জাতীয় দৈনিকে আমার ছড়া ছাপা হয়েছে!

অবন্তী সোমার বেষ্ট ফ্রেন্ডদের একজন।

অবন্তীও সোমাকে অভিনন্দন জানাতে কার্পন্য করেনি।অভিনন্দন বন্ধু,লেখালেখিটা চালিয়ে যা বন্ধ করিস না, তুই খুব ভালো লিখিস!

সোমা বললো লেখাগুলো মন দিয়ে পড়িস বন্ধু।

অবন্তী বললোআমি তোর সব লেখা তো সবার আগেই পড়ি। সোমাহ্যাঁ সেটা অবশ্য ঠিক।

ফোনে কথা শেষ হতেই সোমার বাবা সুজয় বাবু হাতে পত্রিকা নিয়ে বাসায় ঢুকলেন সোমাকে ডাকতে ডাকতেমা মণি! ও মামণি!কই, এদিকে এসো জলদি।

সোমাঃ হ্যাঁ বাবা, আসছি, বলেই সোমা এসে দেখলো বাবার হাতে একটা পত্রিকা।বাবা বললেন এই যে নাও পত্রিকা, তোমার লেখাটা কাটিং করে ইচ্ছে করলে বাঁধিয়ে রাখতে পারো! কারণ, এটাও তোমার জীবনের একটা অর্জন!সোমা বললো ঠিক আছে বাবা,আমি কেটে দেবো তুমি বাঁধিয়ে এনে দিও! পাশের ঘর থেকে সোমার মা বললেনএখানেই থেমে গেলে চলবে না, আর আত্মতৃপ্তিতে ভুগলেও চলবে না, নিয়মিত লিখে যেতে হবে।

সোমার বাবা স্ত্রীর কথার সাথে সহমত পোষন করে বললেনএকদম ঠিক বলেছো, নিয়মিত লিখতে হবে! আর সব থেকে বড় কথা প্রচুর পড়তেও হবে তবেই তো কলম শাণিত হবে।

তবে তোমার এই একুশের ছড়াটি কিন্তু খুবই সুন্দর হয়েছে!

সোমার মা বললেনবাইরে গেলে ফুল নিয়ে এসো কাল তো শহীদ মিনারে যেতে হবে।

মায়ের কথার সাথে সোমাও বললোহ্যাঁ বাবা, এবার বেশি করে ফুল নিয়ে আসবে,অনেক বড় করে একটা তোড়া বানাবো! এবারের একুশটা আমার কাছে আসলেই অন্যরকম অনুভূতির!

বাবা মা হেসে বললেনঠিক আছে, তাই হবে মামণি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাইদচকিয়ায় মহাসংঘদান ও সদ্ধর্ম দেশনা অনুষ্ঠান
পরবর্তী নিবন্ধএকুশে ফেব্রুয়ারি