কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়া দেশি–বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণের পছন্দের জায়গা মহেশখালীর সোনাদিয়া। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকা হিসেবে ঘোষিত এই দ্বীপের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ২০২৩ সালের প্রথম দিন থেকে সোনাদিয়া দ্বীপে বহিরাগতদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। গতকাল রোববার সকাল ১১টার দিকে এক লিখিত বার্তায় সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রণব চৌধুরী। তিনি জানান, আইনশৃক্সখলা রক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে সোনাদিয়া দ্বীপে পর্যটকদের রাত্রিযাপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে বহিরাগত কারো রাত্রিযাপন করতে হলে অনুমতি নিতে হবে। তবে দিনের বেলায় সোনাদিয়া দ্বীপ ভ্রমণে কোনো বাধা নেই। কিন্তু পর্যটকদের বিকেল ৪টার মধ্যে দ্বীপ থেকে ফিরে আসতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাণিজ্যিকভাবে যারা বিভিন্ন অফার দিয়ে সোনাদিয়ায় পর্যটকদের অনিরাপদ রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন, তাদেরকে তা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যতায় বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুসারে বিভিন্ন সময়ে দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকা ঘোষণা করে। এর মধ্যে ১৯৯৯ সালে সুন্দরবন, কক্সবাজার–টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাঁওড়, ২০০১ সালে গুলশান–বারিধারা লেক, ২০০৯ সালে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং ২০১৫ সালে জাফলং–ডাউকি নদীকে ইসিএ হিসেবে ঘোষণা করে।
বাংলানিউজ জানায়, মহেশখালীর ইউএনও মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, সোনাদিয়া দ্বীপে পর্যটকদের রাত্রিযাপন অনিরাপদ হওয়ায় আগে থেকেই নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি আইন অমান্য করে দ্বীপে রাতে অবস্থান করেন অনেকে। দ্বীপটি দুর্গম, সেখানে আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো ফাঁড়ি নেই। আইনশৃক্সখলা রক্ষাসহ পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ওসি নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি স্থানীয় ব্যক্তিদের জানিয়ে দিয়েছেন।